কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ নেপাল বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা জোরদারে বিস্তৃত আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি কাঠমান্ডু: বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে আজ শনিবার দুপুরে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দুই দেশের পোশাক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপাল সরকারের সাবেক সংস্কৃতি, পর্যটন ও নাগরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখারেল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের বিশিষ্ট সমাজসেবক উপেন্দ্র পুডাসৈনি, ডিজিটাল মেডিকেল টুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুজ্জামান আজাদ, এবং এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিটের নির্বাহী পরিচালক গোলাম ফারুক মজনু। সভায় উভয় দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও শিল্প প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক মিল ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কারণে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাত, এবং নেপালের পর্যটন ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল মেডিকেল টুরিজম -এর সম্ভাবনা তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশি হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেপালি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং বৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নেপালের সাবেক মন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখারেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য নেপালে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, নেপালে ব্যবসা স্থাপন ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা প্রদানের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপাল পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।”

এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিটের নির্বাহী পরিচালক মো: গোলাম ফারুক মজনু বলেন, দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিয়মিত বিজনেস ডায়ালগ, ট্রেড ফেয়ার এবং বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ নেপাল বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধা উন্নয়ন, ব্যাংকিং চ্যানেল সহজীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবশেষে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও সমন্বয় উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। সভাটি বাংলাদেশ নেপাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *