নিজ বসতিতে দেয়াল নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি

হাফিজ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাগরি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় জমির সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জমির মালিক মো. ইব্রাহিম খলিল হাওলাদার (৫৫), পিতা-মৃত ছবদার আলী হাওলাদার, রাজাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমিতে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে পূর্ববর্তী জমির মালিকের পরিবারের সদস্যরা কাজে বাধা প্রদান করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আনোয়ার মৃধা (৪০), আরিফ মৃধা (৩২), মুরাদ মৃধা (৩৫), মজিবর সরদার (৮৫) এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।

ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল অভিযোগ করেন, আনোয়ার ২০২৪ সালের পরে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে জায়গা দখল করতে চায়।বিবাদীরা দাঙ্গা হাঙ্গামা কারী প্রকৃতির লোক। এরা এলাকার কোন সালিশি ব্যবস্থা মানেন না। আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি যেটা আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বৈধভাবে ভোগ করে আসছি। আমি জমিটি রাস্তার অংশসহ বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। তবে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে নিজ জমি থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী মজিবর সরদারের যাতায়াতের সুবিধার জন্যও অতিরিক্ত প্রায় ৫ ফুট জায়গা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছি। এরপরও একটি পক্ষ আমার জমির অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করতেছে এবং দেয়াল নির্মাণে বাধা দিচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগালি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মো. ইব্রাহিম খলিল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান।পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে ইব্রাহিম খলিলের বড় মেয়েকে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকানা, রাস্তা ব্যবহার ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এলাকাবাসী বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও আইনগত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও আইনগত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *