
রাকিবুল ইসলাম রাজন, বরগুনা:
মাথার ওপর ছাদ আর তিলে তিলে গড়া সংসার সবই এখন শুধুই ছাই। বরগুনা শহরের গ্রীন রোড এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে চারটি পরিবারের স্বপ্ন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সদরঘাট মসজিদের সাবেক মোয়াজ্জেম মরহুম আবদুল কাদেরের পরিবার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রীন রোড এলাকার মরহুম আবদুল কাদেরের বসতবাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাড়িতে মরহুম আবদুল কাদেরের স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট চারটি পরিবার বসবাস করতেন। আগুনে বাড়িটির আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিলে তিলে গড়ে তোলা ঘরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের আনুমানিক এক কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
সব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সানাউল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, অনেক কষ্ট করে একটু একটু করে এই সংসারটা গড়েছিলাম। চোখের সামনে নিমেষেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল, আমরা কিছুই বাঁচাতে পারলাম না। আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
ঘটনার পরপরই বরগুনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সাথে উদ্ধারকাজে যোগ দেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরগুনা ইউনিটের একদল স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় সাহসী জনতা। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি বা আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ইমদাদুল হক জানান, “প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে আমরা ধারণা করছি। অগ্নিকাণ্ডে ওই বাড়ির মোট চারটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
শহরের আবাসিক এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তা ও বিত্তবানদের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।





Leave a Reply