বরগুনার আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলক, আতঙ্ক-জল্পনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ইসহাক জুয়েলঃ বরগুনার আকাশে হঠাৎ এক রহস্যময় আলোর ঝলকের দেখা মিলেছে।

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আকাশে অস্বাভাবিক এ আলোকচ্ছটা দেখতে পান স্থানীয়রা।

মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল, আতঙ্ক ও নানা আলোচনা| প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ আকাশে লম্বাটে আকৃতির উজ্জ্বল একটি আলোর রেখা ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। বস্তুটির পেছনে ছিল টর্চলাইটের মতো উজ্জ্বল আলো, যা কিছু সময় পর মেঘের আড়ালে মিলিয়ে যায়।

অনেকেই এটিকে মিসাইল সদৃশ বলে মন্তব্য করেছেন| আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো রকেট, স্যাটেলাইট কিংবা মহাকাশীয় বস্তুর আলোকচ্ছটা হতে পারে| ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য ছবি ও ভিডিও|

ফেসবুকে আরিফ খান নামে এক ব্যক্তি কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, কিছুক্ষণ আগে বরগুনা শহরের ভুতমারা গ্রাম থেকে এই ছবিগুলো তুলেছি| কেউ কি বলতে পারেন এটা কিসের ছবি? গুগল ঘেঁটে যা বুঝলাম, এটা মিসাইল সদৃশ|

গোলাম কিবরিয়া নামে আরেকজন লিখেছেন, ধূমকেতু যা বিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী প্রতি ৬৪ বছরে একবার দেখা যায়, আকাশে আজ তারই দেখা মিলল|

অন্যদিকে মো. জিদান নামে এক যুবক তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, মাগরিবের নামাজের পর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ চোখে পড়ল মিসাইলের মতো লম্বাটে কিছু একটা| পেছনে টর্চের আলোর মতো আলো ছিল| দক্ষিণ আকাশে পূর্ব দিক থেকে যেতে যেতে ধীরে ধীরে মেঘের মধ্যে আড়াল হয়ে যায়| পরে ছাদে গিয়ে আবারও দেখতে পাই| এমন দৃশ্য আগে শুধু মিসাইল হামলার ভিডিওতেই দেখেছি।

রহস্যময় এ আলোর ঝলক নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছেন এটি ধূমকেতু, কেউ বলছেন মহাকাশযানের অংশ, আবার অনেকে এটিকে সামরিক কোনো কিছুর সঙ্গেও তুলনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার বিষয়ে কোনো সরকারি সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আলোর ঝলক অনেক সময় রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইটের প্রতিফলন, উল্কাপাত বা মহাকাশীয় বস্তুর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের কারণে দেখা যেতে পারে|

তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *