ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

ঘাটাইল উপজেলার তারাগঞ্জ এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায় সমকাল

ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি কাটা। অতীতের সব রেকর্ড এরই মাঝে ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি মহল দিনরাত মাটি কেটে চলছে। গ্রামীণ সড়কে মাটিভর্তি ট্রাক বা হাইট্রলি চলাচল করায় নির্মাণ বা সংস্কারের দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও ঘণ্টাখানেক ব্যবধানে তা আবার চালু হয়। আমলেই নিচ্ছেন না মাটি ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আইন অমান্য করে এক্সক্যাভেটর (ভ্যাকু) দিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। এ মাটির বেশিরভাগ ব্যবহূত হচ্ছে ইটভাটায়। উপজেলায় ইটের ভাটা রয়েছে প্রায় ৬৮টি। চানতারা নামের এক গ্রামেই রয়েছে ১০টি ভাটা। বিভিন্ন এলাকা থেকে জমির টপ সয়েল কেটে ট্রাক দিয়ে নিয়ে এসব ভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণির দালাল দিয়ে কৃষকদের লোভ দেখিয়ে আবার কখনও বেকায়দায় ফেলে জমির মাটি বিক্রিতে উৎসাহিত করছেন। কৃষকরা লোভে পড়ে নগদ টাকার আশায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার কারণে অনেক জমিই পরিণত হয়েছে ডোবায়। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমি।

অন্যদিকে গ্রামীণ সড়কে মাটিভর্তি ট্রাক বা হাইট্রলি চলাচল করায় নির্মাণ বা সংস্কারের পর দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। উপজেলার গুনগ্রাম, লাউয়াগ্রাম, চানতারা হয়ে বীরখাগিয়ান পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের কিছুদিন পরই ভেঙে যায়। এলাকাবাসী জানান, এই সড়ক দিয়ে চলে প্রায় ১০টি ইটভাটার ট্রাক। ৮ থেকে ১০ টন ভার বহন করার এই সড়ক দিয়ে চলে প্রায় ৪০ টন পণ্য বহনকারী ট্রাক। মাটিবাহী হাইট্রলি দিন-রাতে প্রায় হাজার বার সড়কে চক্কর দেয়। এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১৪ মার্চ এই সড়কের গুনগ্রামে অটোরিকশা উল্টে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। এর প্রতিবাদে এবং মাটি বহনকারী হাইট্রলি বন্ধে স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কটি অবরোধ করে রাখেন। এই সড়কের মতো একই অবস্থা উপজেলার অন্য গ্রামীণ সড়কগুলোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যদের ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, কেউ কারও কথা শোনে না। অন্যান্য স্থানে স্টিল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হলেও ঘাটাইলে তা তৈরি করা হয়নি। তিনি বলেন, এখন গ্রামীণ সড়কগুলোতে অনেক ভারী যান চলাচল করছে। যার ফলে অতি তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এ ব্যাপারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয়

ঘাটাইলে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রকাশিত: ০১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মার্চ ২০২১

ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না ফসলি জমির মাটি কাটা। অতীতের সব রেকর্ড এরই মাঝে ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি মহল দিনরাত মাটি কেটে চলছে। গ্রামীণ সড়কে মাটিভর্তি ট্রাক বা হাইট্রলি চলাচল করায় নির্মাণ বা সংস্কারের দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও ঘণ্টাখানেক ব্যবধানে তা আবার চালু হয়। আমলেই নিচ্ছেন না মাটি ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আইন অমান্য করে এক্সক্যাভেটর (ভ্যাকু) দিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে। এ মাটির বেশিরভাগ ব্যবহূত হচ্ছে ইটভাটায়। উপজেলায় ইটের ভাটা রয়েছে প্রায় ৬৮টি। চানতারা নামের এক গ্রামেই রয়েছে ১০টি ভাটা। বিভিন্ন এলাকা থেকে জমির টপ সয়েল কেটে ট্রাক দিয়ে নিয়ে এসব ভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণির দালাল দিয়ে কৃষকদের লোভ দেখিয়ে আবার কখনও বেকায়দায় ফেলে জমির মাটি বিক্রিতে উৎসাহিত করছেন। কৃষকরা লোভে পড়ে নগদ টাকার আশায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার কারণে অনেক জমিই পরিণত হয়েছে ডোবায়। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমি।

অন্যদিকে গ্রামীণ সড়কে মাটিভর্তি ট্রাক বা হাইট্রলি চলাচল করায় নির্মাণ বা সংস্কারের পর দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। উপজেলার গুনগ্রাম, লাউয়াগ্রাম, চানতারা হয়ে বীরখাগিয়ান পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের কিছুদিন পরই ভেঙে যায়। এলাকাবাসী জানান, এই সড়ক দিয়ে চলে প্রায় ১০টি ইটভাটার ট্রাক। ৮ থেকে ১০ টন ভার বহন করার এই সড়ক দিয়ে চলে প্রায় ৪০ টন পণ্য বহনকারী ট্রাক। মাটিবাহী হাইট্রলি দিন-রাতে প্রায় হাজার বার সড়কে চক্কর দেয়। এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১৪ মার্চ এই সড়কের গুনগ্রামে অটোরিকশা উল্টে বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। এর প্রতিবাদে এবং মাটি বহনকারী হাইট্রলি বন্ধে স্থানীয়রা প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কটি অবরোধ করে রাখেন। এই সড়কের মতো একই অবস্থা উপজেলার অন্য গ্রামীণ সড়কগুলোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যদের ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, কেউ কারও কথা শোনে না। অন্যান্য স্থানে স্টিল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হলেও ঘাটাইলে তা তৈরি করা হয়নি। তিনি বলেন, এখন গ্রামীণ সড়কগুলোতে অনেক ভারী যান চলাচল করছে। যার ফলে অতি তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এ ব্যাপারে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।