ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইসিইউ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা স্বজনদের

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০৪:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১
  • 36

করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে বেড পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আইসিইউয়ের (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। রাজধানীর হাসপাতাগুলোর বর্তমান চিত্র এখন এমনই।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রয়োজনের পরও চাইলেই জরুরিভিত্তিতে আইসিইউতে রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আইসিইউ থেকে একজন রোগীকে রিলিজ করতে হবে। অনেককেই আইসিউর জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে র্দীঘ সময়। হয় কোনো রোগীর মৃত্যু, না হয় রোগীর সুস্থতার পরই মিলছে সোনার হরিণ নামের আইসিইউ।

গত ২২ জুলাই জরুরিভিত্তিতে তার জন্য আইসিইউয়ের (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) দরকার হয় করোনায় আক্রান্ত মনিরুজ্জামানের বড় বোনের। খালি না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়নি আইসিইউ বেড। পরের দিন একজন রোগী চলে গেলে, আইসিউর সেই বেডে বোনকে ভর্তি করেন মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, করোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে যদি আইসিইউ না পাওয়া যেত তাহলে যে কী হতো, তা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। এসব মুহূর্তের কথা বলে বোঝানো সম্ভব না। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে এখানকার আইসিইউ সেবা ভালো।

প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ময়মনসিংহ থেকে মাকে নিয়ে আসা আফরোজা সুলতানা ইমি। তিনি বলেন, মায়ের অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ময়মনসিংহে আইসিইউ না পাওয়ায় ঢাকায় আসতে হয়। এসেও সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউতে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বেড পাওয়া গেছে।

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালটিতে মোট ২৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। প্রতিদিন একাধিক রোগীর আইসিইউ বেড দরকার হলেও সব সময় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনো রোগী মারা যাওয়া বা সুস্থ হওয়ার পরই বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাস থেকে আইসিইউতে বেশি চাপ পড়ছে। এছাড়া অন্যান্য সেবা ঠিকঠাক চলছে। রয়েছে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থাও।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে মোট ২০০টি জেনারেল বেড রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। বর্তমানে মোট রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৯২ জন। আইসিইউর ২৬টি বেডেই রোগী আছেন।

ঢাকা শহরে করোনা রোগীর চিকিৎসায় সরকারি ১৬টি ও বেসরকারি ২৮টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ৯০০টি। এর মধ্যে সরকারিতে ৩৯৩ ও বেসরকারিতে ৫০৭টি। কোনো কোনো হাসপাতালে সাধারণ শয্যার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, করোনার রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকার হাসপাতালের শয্যা বাড়াচ্ছে। সাধারণ শয্যা তাড়াতাড়ি বাড়ানো সম্ভব হলেও আইসিইউ শয্যা, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী তো দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে না।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

আইসিইউ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা স্বজনদের

প্রকাশিত: ০৪:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১

করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে বেড পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আইসিইউয়ের (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। রাজধানীর হাসপাতাগুলোর বর্তমান চিত্র এখন এমনই।

শুক্রবার (৩০ জুলাই) উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রয়োজনের পরও চাইলেই জরুরিভিত্তিতে আইসিইউতে রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আইসিইউ থেকে একজন রোগীকে রিলিজ করতে হবে। অনেককেই আইসিউর জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে র্দীঘ সময়। হয় কোনো রোগীর মৃত্যু, না হয় রোগীর সুস্থতার পরই মিলছে সোনার হরিণ নামের আইসিইউ।

গত ২২ জুলাই জরুরিভিত্তিতে তার জন্য আইসিইউয়ের (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) দরকার হয় করোনায় আক্রান্ত মনিরুজ্জামানের বড় বোনের। খালি না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়নি আইসিইউ বেড। পরের দিন একজন রোগী চলে গেলে, আইসিউর সেই বেডে বোনকে ভর্তি করেন মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, করোনা আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে যদি আইসিইউ না পাওয়া যেত তাহলে যে কী হতো, তা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। এসব মুহূর্তের কথা বলে বোঝানো সম্ভব না। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে এখানকার আইসিইউ সেবা ভালো।

প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ময়মনসিংহ থেকে মাকে নিয়ে আসা আফরোজা সুলতানা ইমি। তিনি বলেন, মায়ের অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ময়মনসিংহে আইসিইউ না পাওয়ায় ঢাকায় আসতে হয়। এসেও সঙ্গে সঙ্গে আইসিইউতে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বেড পাওয়া গেছে।

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালটিতে মোট ২৬টি আইসিইউ বেড রয়েছে। প্রতিদিন একাধিক রোগীর আইসিইউ বেড দরকার হলেও সব সময় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনো রোগী মারা যাওয়া বা সুস্থ হওয়ার পরই বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাস থেকে আইসিইউতে বেশি চাপ পড়ছে। এছাড়া অন্যান্য সেবা ঠিকঠাক চলছে। রয়েছে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থাও।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে মোট ২০০টি জেনারেল বেড রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। বর্তমানে মোট রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৯২ জন। আইসিইউর ২৬টি বেডেই রোগী আছেন।

ঢাকা শহরে করোনা রোগীর চিকিৎসায় সরকারি ১৬টি ও বেসরকারি ২৮টি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ৯০০টি। এর মধ্যে সরকারিতে ৩৯৩ ও বেসরকারিতে ৫০৭টি। কোনো কোনো হাসপাতালে সাধারণ শয্যার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, করোনার রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকার হাসপাতালের শয্যা বাড়াচ্ছে। সাধারণ শয্যা তাড়াতাড়ি বাড়ানো সম্ভব হলেও আইসিইউ শয্যা, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী তো দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে না।