ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অফুরান শক্তি হয়ে তিনি আছেন বাঙালির হৃদয়ে

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ১০:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১
  • 37

দেশদ্রোহী ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটি আর মানুষকে বেঁধেছিলেন গভীর ভালোবাসার বন্ধনে। যে বন্ধন কোনোদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। বাঙালির কাছে মুজিব মৃত্যুঞ্জয়ী এক বীরের নাম। তাইতো আগস্ট এলেই জাতি শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করে এই বীরকে। কবির ভাষায়- ‘সে আছে, সে আছে- সর্বদা হাজির সে যে, অফুরান শক্তি হয়ে সে আছে, সে আছে সে অমর, মৃত্যুঞ্জয়ী, মৃত্যু নেই তার।’

সেই শোকাবহ আগস্টের পঞ্চম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ছিল মঙ্গলবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। দিনটি বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামালের জন্মদিন। ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রধান লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু হলেও ওই দিনের ঘটনায় শেখ কামালই ছিলেন প্রথম শহিদ। বঙ্গবন্ধুর ছেলে পরিচয় দেওয়ার পর ঘাতক বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে শেখ কামালের বুকে গুলি চালায়।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পাহারাদার হাবিলদার কুদ্দুস সিকদারের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথম প্রবেশ করে বজলুল হুদা এবং নূর চৌধুরী। সঙ্গে আরও কয়েকজন। ঢুকেই তারা শেখ কামালকে দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে তাকে গুলি করে। শেখ কামাল বারান্দা থেকে ছিটকে গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষের মধ্যে পড়ে যান। সেখানে তাকে আবার গুলি করে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ভবনের আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী এবং হত্যা মামলার বাদী মোহিতুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মধ্যেও এ বর্ণনা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠা। শৈশব-কৈশোর থেকে তিনি এ আদর্শ নিয়েই বড় হয়ে ওঠেন। নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন। তার এ চারিত্রিক দৃঢ়তার পেছনে ছিল গভীর অধ্যয়ন, জানা-চেনা-শোনা ও দেখার গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তিনি হৃদয়ের আবেগকে যথেষ্টভাবে ধারণ করতে সমর্থ হন। এর পেছনে ছিল মানুষকে ভালোবাসা ও সাহায্য করার জন্য তার দরদি মন। বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন- ‘সাত কোটি বাঙালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

কিন্তু ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির হৃদয় ও স্বপ্নের স্বাধীন প্রিয় বাংলাদেশ থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু‘ ওদের ধারণা ভুল হয়েছে। হত্যার পর মুজিব আরও বেশি করে বাঙালির হৃদয়ে জাগা করে নিয়েছেন। তাই আজও শ্রাবণের বৃষ্টি, সবুজ মাঠের সীমানা, নদীর পার ঘেঁষে সমুদ্রের জল, গাছের পাতা শোকে কাঁদছে অবিরাম। বছর ঘুরে রক্তের কালিতে লেখা সেই দিন-রাত বাংলায় বারবার ফিরে আসে। নদীর স্রোতের মতো চির বহমান কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে শোকের আগুন।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

অফুরান শক্তি হয়ে তিনি আছেন বাঙালির হৃদয়ে

প্রকাশিত: ১০:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১

দেশদ্রোহী ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটি আর মানুষকে বেঁধেছিলেন গভীর ভালোবাসার বন্ধনে। যে বন্ধন কোনোদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। বাঙালির কাছে মুজিব মৃত্যুঞ্জয়ী এক বীরের নাম। তাইতো আগস্ট এলেই জাতি শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করে এই বীরকে। কবির ভাষায়- ‘সে আছে, সে আছে- সর্বদা হাজির সে যে, অফুরান শক্তি হয়ে সে আছে, সে আছে সে অমর, মৃত্যুঞ্জয়ী, মৃত্যু নেই তার।’

সেই শোকাবহ আগস্টের পঞ্চম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ছিল মঙ্গলবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। দিনটি বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামালের জন্মদিন। ১৫ আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রধান লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু হলেও ওই দিনের ঘটনায় শেখ কামালই ছিলেন প্রথম শহিদ। বঙ্গবন্ধুর ছেলে পরিচয় দেওয়ার পর ঘাতক বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে শেখ কামালের বুকে গুলি চালায়।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পাহারাদার হাবিলদার কুদ্দুস সিকদারের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, বাড়িতে প্রথম প্রবেশ করে বজলুল হুদা এবং নূর চৌধুরী। সঙ্গে আরও কয়েকজন। ঢুকেই তারা শেখ কামালকে দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে তাকে গুলি করে। শেখ কামাল বারান্দা থেকে ছিটকে গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষের মধ্যে পড়ে যান। সেখানে তাকে আবার গুলি করে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ভবনের আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী এবং হত্যা মামলার বাদী মোহিতুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মধ্যেও এ বর্ণনা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল বাংলার স্বাধীনতা ও বাঙালির জাতিসত্তার প্রতিষ্ঠা। শৈশব-কৈশোর থেকে তিনি এ আদর্শ নিয়েই বড় হয়ে ওঠেন। নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন। তার এ চারিত্রিক দৃঢ়তার পেছনে ছিল গভীর অধ্যয়ন, জানা-চেনা-শোনা ও দেখার গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তিনি হৃদয়ের আবেগকে যথেষ্টভাবে ধারণ করতে সমর্থ হন। এর পেছনে ছিল মানুষকে ভালোবাসা ও সাহায্য করার জন্য তার দরদি মন। বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন- ‘সাত কোটি বাঙালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

কিন্তু ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে বাঙালির হৃদয় ও স্বপ্নের স্বাধীন প্রিয় বাংলাদেশ থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু‘ ওদের ধারণা ভুল হয়েছে। হত্যার পর মুজিব আরও বেশি করে বাঙালির হৃদয়ে জাগা করে নিয়েছেন। তাই আজও শ্রাবণের বৃষ্টি, সবুজ মাঠের সীমানা, নদীর পার ঘেঁষে সমুদ্রের জল, গাছের পাতা শোকে কাঁদছে অবিরাম। বছর ঘুরে রক্তের কালিতে লেখা সেই দিন-রাত বাংলায় বারবার ফিরে আসে। নদীর স্রোতের মতো চির বহমান কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে শোকের আগুন।