ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোবিজ অঙ্গনে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অগাস্ট ২০২১
  • 42

শোবিজ অঙ্গনের এক শ্রেণির তথকাকথিত মডেল ও নায়িকাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন।

সর্বশেষ পরীমনি গ্রেপ্তারের পর চুপসে গেছেন এসব মডেল, নায়িকা ও তাদের আশ্রয়প্রশ্রয়দাতারা। চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই পরীমনি ও নজরুল রাজদের প্রভাবশালীই মনে করত। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসছে শোবিজ অঙ্গনের নানা কাহিনী।

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা ধরেই এ অভিযান। যাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের এক শ্রেণির তথাকথিত মডেল ও নায়িকারা বাসা বা হোটেলে পার্টি করে। এখানে আসা অথিতিদের নগ্ন ছবি বা ভিডিও করে পরবর্তীতে ব্ল্যাক মেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নেয়। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারও চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ১ আগস্ট আলোচিত মডেল পিয়াসা ও মৌকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মডেল পিয়াসা ও মৌ ‘রাতের রানী’ বলে আখ্যা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ ছিলেন সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

এর আগে রাজধানীর বারিধারায় পিয়াসার বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল মদ, ইয়াবা ও সিসা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাত দশটা থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত। ওই রাতেই ডিবির আরেকটি দল মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মডেল মৌ আক্তারকে আটক করে।

এ সময় তার বাড়িতেও মদের বারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকেও জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ। এই ঘটনায় মডেল পিয়াসা এবং মডেল মৌকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) শাখার যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ।

তিনি বলেন, ‘পিয়াসা এবং মৌ সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুজনের বাড়িতেই বিদেশি মদ, ইয়াবা, সিসা পাওয়া যায়। মৌ-এর বাড়িতে মদের বার ছিল।’

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রানি। তারা দিনের বেলায় ঘুমাতেন এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করতেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় এলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও তুলে রাখতেন। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও এবং ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং টাকা হাতিয়ে নিতেন।’

কে এই পিয়াসা : দুই বছর আগে পিয়াসা নামটি বেশ আলোচনায় আসে। দেশের প্রথম সারির জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম তার সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তার সেই সাবেক পুত্রবধূর নাম ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।

চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০১৯ সালের ৫ মার্চ সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন দিলদার আহমেদ। মামলার পর ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান পিয়াসা। মামলাটি জামিনযোগ্য হওয়ায় তাকে জামিন দেয় আদালত।

মামলায় দিলদার আহমেদ সেলিম অভিযোগ করেছিলেন, পিয়াসা দিলদারপুত্র সাফাতকে ফাঁদে ফেলে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি বিয়ে করেন। পরে তারা জানতে পারেন যে পিয়াসা মাদকাসক্ত এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। তাই ২০১৭ সালের ৮ মার্চ পিয়াসাকে তালাক দেন সাফাত।

এছাড়া রাজধানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে পিয়াসার স্বামী সাফাতের নাম জড়ায়।

বিতর্কিত মডেল মৌ আক্তার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৌ ১১টি বিয়ে করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ধনাঢ্যদের ফাঁদে ফেলে তিনি বিয়ে করতেন। বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও মোহাম্মদপুরে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে তার। লেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের তিনটি দামি গাড়িও আছে।

মৌ মডেলিং পেশার আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মাদক ও অনৈতিক ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতার কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।

ডিবি পুলিশ জানতে পেরেছে, মৌয়ের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত সুন্দরী তরুণী রয়েছেন। তাদের দিয়েই ধনী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করতেন। টাকা না দিয়ে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এভাবে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার র‌্যাবের অভিযানে আটক হন এ সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা পরীমনি। একই সঙ্গে আটক হন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। সংঘবদ্ধ এ চক্রটি পর্ণভিডিও বানাতো। পর্নো ভিডিও বানানোর সরঞ্জামও জব্দ করা হয় রাজের বাসা থেকে। এ দুজনের বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। পরীমনির বাসা থেকে ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইসও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আলোচিত এসব মডেল ও অভিনেত্রীদের আটকের পর আরো ডজনখানেক মডেল-অভিনেত্রীর ওপর র‍্যাবের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। সেই তালিকায় আছেন চিত্রনায়িকা আঁচল, শিরিন শিলা, মডেল অহনা, মৃদুলা ও বিতর্কিত মডেল নায়লা নাঈমসহ অনেকে রয়েছে। যে-কোনো সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আরমানের বান্ধবী ছিলেন চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। এরপর আরেক নেতা সম্রাটের সঙ্গেও ছিল তার সখ্য। এমনকি সিঙ্গাপুর থেকে মূল্যবান গহনা এনেও শিলাকে দিয়েছিলেন সম্রাট।

এদিকে শুধু নায়িকা বা নারী মডেল নন, কয়েকজন কথিত নায়কও আছেন র‌্যাবের সন্দেহভাজনের তালিকায়। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসান। যিনি বছর দশেক আগেই সিনেমা থেকে দূরে সরে গেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে অবৈধ পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেছেন, পরীমণি ছাড়াও বেশ কয়েকজন মডেল-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরা নজরদারির মধ্যে রয়েছে। যে-কোনো সময় তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

শোবিজ অঙ্গনে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অগাস্ট ২০২১

শোবিজ অঙ্গনের এক শ্রেণির তথকাকথিত মডেল ও নায়িকাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন।

সর্বশেষ পরীমনি গ্রেপ্তারের পর চুপসে গেছেন এসব মডেল, নায়িকা ও তাদের আশ্রয়প্রশ্রয়দাতারা। চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই পরীমনি ও নজরুল রাজদের প্রভাবশালীই মনে করত। তাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসছে শোবিজ অঙ্গনের নানা কাহিনী।

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার অভিযান চলবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা ধরেই এ অভিযান। যাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের এক শ্রেণির তথাকথিত মডেল ও নায়িকারা বাসা বা হোটেলে পার্টি করে। এখানে আসা অথিতিদের নগ্ন ছবি বা ভিডিও করে পরবর্তীতে ব্ল্যাক মেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নেয়। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারও চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ১ আগস্ট আলোচিত মডেল পিয়াসা ও মৌকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মডেল পিয়াসা ও মৌ ‘রাতের রানী’ বলে আখ্যা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

জানা যায়, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ ছিলেন সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

এর আগে রাজধানীর বারিধারায় পিয়াসার বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল মদ, ইয়াবা ও সিসা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাত দশটা থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত। ওই রাতেই ডিবির আরেকটি দল মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মডেল মৌ আক্তারকে আটক করে।

এ সময় তার বাড়িতেও মদের বারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকেও জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ। এই ঘটনায় মডেল পিয়াসা এবং মডেল মৌকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) শাখার যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ।

তিনি বলেন, ‘পিয়াসা এবং মৌ সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুজনের বাড়িতেই বিদেশি মদ, ইয়াবা, সিসা পাওয়া যায়। মৌ-এর বাড়িতে মদের বার ছিল।’

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রানি। তারা দিনের বেলায় ঘুমাতেন এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করতেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় এলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও তুলে রাখতেন। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও এবং ছবি ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং টাকা হাতিয়ে নিতেন।’

কে এই পিয়াসা : দুই বছর আগে পিয়াসা নামটি বেশ আলোচনায় আসে। দেশের প্রথম সারির জুয়েলার্স প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম তার সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তার সেই সাবেক পুত্রবধূর নাম ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।

চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০১৯ সালের ৫ মার্চ সাবেক পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন দিলদার আহমেদ। মামলার পর ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান পিয়াসা। মামলাটি জামিনযোগ্য হওয়ায় তাকে জামিন দেয় আদালত।

মামলায় দিলদার আহমেদ সেলিম অভিযোগ করেছিলেন, পিয়াসা দিলদারপুত্র সাফাতকে ফাঁদে ফেলে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি বিয়ে করেন। পরে তারা জানতে পারেন যে পিয়াসা মাদকাসক্ত এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। তাই ২০১৭ সালের ৮ মার্চ পিয়াসাকে তালাক দেন সাফাত।

এছাড়া রাজধানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে পিয়াসার স্বামী সাফাতের নাম জড়ায়।

বিতর্কিত মডেল মৌ আক্তার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৌ ১১টি বিয়ে করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ধনাঢ্যদের ফাঁদে ফেলে তিনি বিয়ে করতেন। বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও মোহাম্মদপুরে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে তার। লেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের তিনটি দামি গাড়িও আছে।

মৌ মডেলিং পেশার আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মাদক ও অনৈতিক ব্যবসায় তার সংশ্লিষ্টতার কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।

ডিবি পুলিশ জানতে পেরেছে, মৌয়ের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত সুন্দরী তরুণী রয়েছেন। তাদের দিয়েই ধনী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করতেন। টাকা না দিয়ে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। এভাবে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার র‌্যাবের অভিযানে আটক হন এ সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নায়িকা পরীমনি। একই সঙ্গে আটক হন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। সংঘবদ্ধ এ চক্রটি পর্ণভিডিও বানাতো। পর্নো ভিডিও বানানোর সরঞ্জামও জব্দ করা হয় রাজের বাসা থেকে। এ দুজনের বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। পরীমনির বাসা থেকে ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইসও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আলোচিত এসব মডেল ও অভিনেত্রীদের আটকের পর আরো ডজনখানেক মডেল-অভিনেত্রীর ওপর র‍্যাবের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। সেই তালিকায় আছেন চিত্রনায়িকা আঁচল, শিরিন শিলা, মডেল অহনা, মৃদুলা ও বিতর্কিত মডেল নায়লা নাঈমসহ অনেকে রয়েছে। যে-কোনো সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আরমানের বান্ধবী ছিলেন চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। এরপর আরেক নেতা সম্রাটের সঙ্গেও ছিল তার সখ্য। এমনকি সিঙ্গাপুর থেকে মূল্যবান গহনা এনেও শিলাকে দিয়েছিলেন সম্রাট।

এদিকে শুধু নায়িকা বা নারী মডেল নন, কয়েকজন কথিত নায়কও আছেন র‌্যাবের সন্দেহভাজনের তালিকায়। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসান। যিনি বছর দশেক আগেই সিনেমা থেকে দূরে সরে গেছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে অবৈধ পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম বলেছেন, পরীমণি ছাড়াও বেশ কয়েকজন মডেল-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরা নজরদারির মধ্যে রয়েছে। যে-কোনো সময় তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।