ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘মুসলমানদের রক্ষায়’ আফগানিস্তানে গেছেন সিলেটের রাজ্জাক!

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০৯:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১
  • 23

‘মুসলমানদের রক্ষার’ নামে তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিতে আফগানিস্তানে ‘হিজরত’ করেছেন সিলেটের তরুণ আব্দুর রাজ্জাক (২০)। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ‘মুসলমানদের রক্ষার’ নামে আব্দুর রাজ্জাক বাড়ি ছেড়েছেন। তার বড় ভাই সালমান খান নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ‘মুসলমানদের রক্ষার নামে তার আফগানযাত্রার’ ব্যাপারটি জানেন না তিনি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, প্রথমে ভারতে যান রাজ্জাক। এখন তিনি আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশি যুবক আছেন এবং সেখানে তালেবানদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তারা।

সিটিটিসি জানায়, প্রথমে ভারত, এরপর পাকিস্তান হয়ে তিনি আফগানিস্তান পৌঁছেছেন। হিজরতের নামে তালেবানদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করাই তার মূল উদ্দেশ্য। রাজ্জাক শুধু একাই যাননি। তার মতো আরও অনেক যুবক হিজরতের নামে গ্রুপ করে তালেবানদের ডাকে আফগানিস্তানে যাচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কলেজে ভর্তির পর বন্ধুদের সঙ্গে একাধিকবার তাবলিগে গিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাসায় টিভি, ল্যাপটপ না থাকলেও কয়েকমাস আগে স্মার্ট ফোন কেনেন তিনি। মোবাইলের মাধ্যমে ইউটিউবে শুধু ওয়াজ শুনতেন।

রাজ্জাকের বড় ভাই সালমান খান জানান, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট নগরের লামাবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে যান আব্দুর রাজ্জাক। দুইদিন বন্ধু ফরিদের বাসায় থাকবেন বলে জানান তিনি। পরদিন ২৫ মার্চ ফরিদের বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরেননি রাজ্জাক। তার বন্ধু ফরিদ লামাবাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাতালিয়া মসজিদের হুজুর। সে মসজিদের কোয়ার্টারে থাকে।

সালমান আরও বলেন, রাজ্জাক লামাবাজারের একটি কলেজের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করে সে। হাতেগোনা কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ছিল তার চলাফেরা। প্রয়োজন ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলত না রাজ্জাক। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। সে যে আফগানিস্তান যেতে পারে, এটা বিশ্বাস হয় না।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ থেকে রাজ্জাক নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। শেষে গত ১ এপ্রিল সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। ওই জিডির সূত্র ধরে সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিটিটিসি। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তারা জানায়, রাজ্জাক এখন আফগানিস্তানে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘তিনজনের নাম পেয়েছি। তাদের একজন রাজ্জাক।’

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রথমে তারা ভারতে প্রবেশ করছেন। সেখান থেকে একটি গ্রুপ তাদের পাকিস্তানে পার করে দিচ্ছে। পাকিস্তান থেকে আরেকটি গ্রুপ তাদের আফগানিস্তানে তালেবানদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

‘মুসলমানদের রক্ষায়’ আফগানিস্তানে গেছেন সিলেটের রাজ্জাক!

প্রকাশিত: ০৯:২১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

‘মুসলমানদের রক্ষার’ নামে তালেবানদের সঙ্গে যোগ দিতে আফগানিস্তানে ‘হিজরত’ করেছেন সিলেটের তরুণ আব্দুর রাজ্জাক (২০)। এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ‘মুসলমানদের রক্ষার’ নামে আব্দুর রাজ্জাক বাড়ি ছেড়েছেন। তার বড় ভাই সালমান খান নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ‘মুসলমানদের রক্ষার নামে তার আফগানযাত্রার’ ব্যাপারটি জানেন না তিনি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, প্রথমে ভারতে যান রাজ্জাক। এখন তিনি আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশি যুবক আছেন এবং সেখানে তালেবানদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তারা।

সিটিটিসি জানায়, প্রথমে ভারত, এরপর পাকিস্তান হয়ে তিনি আফগানিস্তান পৌঁছেছেন। হিজরতের নামে তালেবানদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করাই তার মূল উদ্দেশ্য। রাজ্জাক শুধু একাই যাননি। তার মতো আরও অনেক যুবক হিজরতের নামে গ্রুপ করে তালেবানদের ডাকে আফগানিস্তানে যাচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কলেজে ভর্তির পর বন্ধুদের সঙ্গে একাধিকবার তাবলিগে গিয়েছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাসায় টিভি, ল্যাপটপ না থাকলেও কয়েকমাস আগে স্মার্ট ফোন কেনেন তিনি। মোবাইলের মাধ্যমে ইউটিউবে শুধু ওয়াজ শুনতেন।

রাজ্জাকের বড় ভাই সালমান খান জানান, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট নগরের লামাবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে যান আব্দুর রাজ্জাক। দুইদিন বন্ধু ফরিদের বাসায় থাকবেন বলে জানান তিনি। পরদিন ২৫ মার্চ ফরিদের বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরেননি রাজ্জাক। তার বন্ধু ফরিদ লামাবাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাতালিয়া মসজিদের হুজুর। সে মসজিদের কোয়ার্টারে থাকে।

সালমান আরও বলেন, রাজ্জাক লামাবাজারের একটি কলেজের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করে সে। হাতেগোনা কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ছিল তার চলাফেরা। প্রয়োজন ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলত না রাজ্জাক। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। সে যে আফগানিস্তান যেতে পারে, এটা বিশ্বাস হয় না।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ থেকে রাজ্জাক নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। শেষে গত ১ এপ্রিল সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। ওই জিডির সূত্র ধরে সালমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিটিটিসি। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তারা জানায়, রাজ্জাক এখন আফগানিস্তানে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘তিনজনের নাম পেয়েছি। তাদের একজন রাজ্জাক।’

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রথমে তারা ভারতে প্রবেশ করছেন। সেখান থেকে একটি গ্রুপ তাদের পাকিস্তানে পার করে দিচ্ছে। পাকিস্তান থেকে আরেকটি গ্রুপ তাদের আফগানিস্তানে তালেবানদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।