ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে অফিস সহকারীর হাতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত,জাতীয় মানবাধিকার সমিতির গভীর উদ্বেগ

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ১২:২৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অগাস্ট ২০২১
  • 24

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাফা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন ওই কলেজেরই অফিস সহকারী। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গত ১৭ আগস্ট, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ওই অফিস সহকারীর নাম ফরিদা ইয়াসমিন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিনয় কৃষ্ণ বল অফিস সহকারী ফরিদার কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর তিনি জুতা দিয়ে অধ্যক্ষকে আঘাত করেন। সেসময় সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৮ আগস্ট, বুধবার ২০২১ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হলে, শিক্ষক সমাজ সহ আমাদের সকলের জন্যই তা অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক হবে।অবিলম্বে, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যদি ঘটনা প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের প্রতি নেতৃবৃন্দ আহবান জানান।

ঘটনার বিবরণীতে আরো জানা যায়, বর্তমানে ওই অধ্যক্ষ মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. ফেরদৌস ইসলাম।

এ ঘটনায় ১৮ ই আগস্ট, ২০২১ মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে,মামলার ধারা (৩২৩,৩৭৯, ৫০৬)।মামলার বিষয়টি ডিউটি অফিসার এস আই জাহিদ নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে গনমাধ্যম থেকে জানতে চাইলে তিনি ও অন্যান্যরা বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ফরিদা ইয়াসমিন কলেজের কোনো নিয়ম কানুন মানেন না। এমনকি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানেও অংশ নেননি ফরিদা। গতকাল সকালে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্যে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসে। সে সময় অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানকারী শিক্ষার্থীদের নামগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করার জন্যে ফরিদাকে বলেছিলাম। তবে, তিনি আমার কথার কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় ১৭ আগস্ট রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে ফরিদার কক্ষে যাই এবং শিক্ষার্থীদের নাম না তোলার বিষয় জানতে চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনেই ফরিদা জুতা দিয়ে আমাকে মারতে শুরু করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আমাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে।’

এ ঘটনায় ফরিদা ইয়াসমিনকে একমাত্র আসামী করে তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন, মানসিকভাবে নির্যাতন, অপমান করেছেন। গতকালও আমার সঙ্গে একই আচরণ করা হয়েছিল। পরে আমি তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলাম। কিন্তু, মারিনি।’

কিন্তু, সিসিটিভির ফুটেজে অধ্যক্ষকে আঘাত করতে দেখা গেছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি তাকে মারিনি। মারতে উদ্যত হয়েছিলাম।’

কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আশরাফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক বৈঠক করেছি। এ ঘটনার তদন্তে কমিটি করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বশির আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আজিজি জানান, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির মঠবাড়িয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মঠবাড়িয়া মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আজিম উল হক জানান, ঘটনাটি জঘন্যতম অপরাধ। শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন ধানিসাফা এলাকার আলম বেপারীর স্ত্রী। জুতাপেটার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কলেজ শিক্ষক নেতাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাফা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুরুন্নাহার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলেন, প্রিন্সিপাল স্যার এসাইনমেন্ট জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নাম রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করতে বলেন। কিন্তু অফিস সহকারী ম্যাম এতে অপরাগতা প্রকাশ করে হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পায়ের জুতা খুলে স্যারকে পিটানো শুরু করেন। আমরা স্যারকে উদ্ধার করি।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এজাহার ভুক্ত আসামী ফরিদা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করার জন্য মানবাধিকার সমিতির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানান।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

পিরোজপুরে অফিস সহকারীর হাতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত,জাতীয় মানবাধিকার সমিতির গভীর উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১২:২৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অগাস্ট ২০২১

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সাফা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন ওই কলেজেরই অফিস সহকারী। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গত ১৭ আগস্ট, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ওই অফিস সহকারীর নাম ফরিদা ইয়াসমিন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিনয় কৃষ্ণ বল অফিস সহকারী ফরিদার কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর তিনি জুতা দিয়ে অধ্যক্ষকে আঘাত করেন। সেসময় সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৮ আগস্ট, বুধবার ২০২১ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হলে, শিক্ষক সমাজ সহ আমাদের সকলের জন্যই তা অত্যন্ত দুঃখ ও লজ্জাজনক হবে।অবিলম্বে, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যদি ঘটনা প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের প্রতি নেতৃবৃন্দ আহবান জানান।

ঘটনার বিবরণীতে আরো জানা যায়, বর্তমানে ওই অধ্যক্ষ মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. ফেরদৌস ইসলাম।

এ ঘটনায় ১৮ ই আগস্ট, ২০২১ মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে,মামলার ধারা (৩২৩,৩৭৯, ৫০৬)।মামলার বিষয়টি ডিউটি অফিসার এস আই জাহিদ নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে গনমাধ্যম থেকে জানতে চাইলে তিনি ও অন্যান্যরা বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ফরিদা ইয়াসমিন কলেজের কোনো নিয়ম কানুন মানেন না। এমনকি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানেও অংশ নেননি ফরিদা। গতকাল সকালে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্যে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসে। সে সময় অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানকারী শিক্ষার্থীদের নামগুলো রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করার জন্যে ফরিদাকে বলেছিলাম। তবে, তিনি আমার কথার কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় ১৭ আগস্ট রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে ফরিদার কক্ষে যাই এবং শিক্ষার্থীদের নাম না তোলার বিষয় জানতে চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনেই ফরিদা জুতা দিয়ে আমাকে মারতে শুরু করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আমাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে।’

এ ঘটনায় ফরিদা ইয়াসমিনকে একমাত্র আসামী করে তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন, মানসিকভাবে নির্যাতন, অপমান করেছেন। গতকালও আমার সঙ্গে একই আচরণ করা হয়েছিল। পরে আমি তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলাম। কিন্তু, মারিনি।’

কিন্তু, সিসিটিভির ফুটেজে অধ্যক্ষকে আঘাত করতে দেখা গেছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি তাকে মারিনি। মারতে উদ্যত হয়েছিলাম।’

কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আশরাফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক বৈঠক করেছি। এ ঘটনার তদন্তে কমিটি করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বশির আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আজিজি জানান, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির মঠবাড়িয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মঠবাড়িয়া মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আজিম উল হক জানান, ঘটনাটি জঘন্যতম অপরাধ। শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন ধানিসাফা এলাকার আলম বেপারীর স্ত্রী। জুতাপেটার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কলেজ শিক্ষক নেতাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সাফা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুরুন্নাহার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বলেন, প্রিন্সিপাল স্যার এসাইনমেন্ট জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের নাম রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি করতে বলেন। কিন্তু অফিস সহকারী ম্যাম এতে অপরাগতা প্রকাশ করে হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পায়ের জুতা খুলে স্যারকে পিটানো শুরু করেন। আমরা স্যারকে উদ্ধার করি।

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এজাহার ভুক্ত আসামী ফরিদা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করার জন্য মানবাধিকার সমিতির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানান।