ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে জাকিরের ‘আম চিঠি’

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০৮:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অগাস্ট ২০২১
  • 30

বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন নাটোরের জাকির হোসেন।তবে এটি কাগজে লেখা চিঠি নয়, জাকির হোসেন চিঠিটি লিখেছেন একটি আমের গায়ে।জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি কুরিয়ার সার্ভিসের (ডাকযোগে) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিকানায় আম চিঠিটি পাঠিয়েছেন। জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার এই খোলা চিঠি তিনি ‘আম চিঠি’ নামের পেজ ও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন। ওই চিঠিতে তিনি চিঠি লেখার গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার নীরব আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি চিঠিতে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমি জাকির হোসেন। পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার। বর্ণমালার বন্ধু ও আমের চিঠির জনক। দুই অক্ষরের এই ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো শব্দমালা। এই চিঠি লিখে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ছিনিয়ে এনেছে বাংলার স্বাধীনতা (১৯৭১) ও বাংলা ভাষা (১৯৫২)। চিঠি নিয়ে রচিত হয়েছে সেই বিখ্যাত গ্রন্থ ÔDISCOVERY OF INDIA’। চিঠি নিয়ে কি রচিত হয়নি, রচিত হয়েছে গান, গল্প ও হাজারো প্রেম কাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, মনীষী ও বিজ্ঞানীরা তাদের মনের ভাব চিঠিতেই প্রকাশ করে গেছেন। তাই আমি চিঠির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে আমাদের দেশের পতাকার আদলে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ থেকে সাংসদ পর্যন্ত আমের চিঠি লিখে আসছি।

আমের চিঠি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় পত্র-পত্রিকা প্রচার করে আসছে। অতীতকে ইতি করে নয়, আমার এ নীরব আন্দোলন, সাধনা ও নিরলস পরিশ্রম বঙ্গবন্ধু চিঠি জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমেই সফল হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন এই যে, বর্ণিত পত্রের গুরুত্ব ও তাৎপর্য চিঠি জাদুঘরের মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারব। বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম চিঠি জাদুঘর স্থাপিত হতে পারে যদি আপনার সদয় হয়।’

উল্লেখ্য, জেলার লালপুরের লক্ষ্মণবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন চিঠি লেখা সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে দীর্ঘ দিন থেকে সবুজ আমের গায়ে জাতীয় পতাকার আদলে চিঠি লিখে মন্ত্রী-এমপি, লেখক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনদের কাছে পৌঁছে দেন। এছাড়া ভাষা দিবসে বর্ণমালার বই বিলি করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীকে জাকিরের ‘আম চিঠি’

প্রকাশিত: ০৮:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অগাস্ট ২০২১

বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন নাটোরের জাকির হোসেন।তবে এটি কাগজে লেখা চিঠি নয়, জাকির হোসেন চিঠিটি লিখেছেন একটি আমের গায়ে।জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি কুরিয়ার সার্ভিসের (ডাকযোগে) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠিকানায় আম চিঠিটি পাঠিয়েছেন। জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার এই খোলা চিঠি তিনি ‘আম চিঠি’ নামের পেজ ও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন। ওই চিঠিতে তিনি চিঠি লেখার গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার নীরব আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি চিঠিতে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমি জাকির হোসেন। পেশায় গ্রাম্য ডাক্তার। বর্ণমালার বন্ধু ও আমের চিঠির জনক। দুই অক্ষরের এই ছোট্ট শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হাজারো শব্দমালা। এই চিঠি লিখে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ছিনিয়ে এনেছে বাংলার স্বাধীনতা (১৯৭১) ও বাংলা ভাষা (১৯৫২)। চিঠি নিয়ে রচিত হয়েছে সেই বিখ্যাত গ্রন্থ ÔDISCOVERY OF INDIA’। চিঠি নিয়ে কি রচিত হয়নি, রচিত হয়েছে গান, গল্প ও হাজারো প্রেম কাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, মনীষী ও বিজ্ঞানীরা তাদের মনের ভাব চিঠিতেই প্রকাশ করে গেছেন। তাই আমি চিঠির গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে আমাদের দেশের পতাকার আদলে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ থেকে সাংসদ পর্যন্ত আমের চিঠি লিখে আসছি।

আমের চিঠি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় পত্র-পত্রিকা প্রচার করে আসছে। অতীতকে ইতি করে নয়, আমার এ নীরব আন্দোলন, সাধনা ও নিরলস পরিশ্রম বঙ্গবন্ধু চিঠি জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমেই সফল হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন এই যে, বর্ণিত পত্রের গুরুত্ব ও তাৎপর্য চিঠি জাদুঘরের মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারব। বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম চিঠি জাদুঘর স্থাপিত হতে পারে যদি আপনার সদয় হয়।’

উল্লেখ্য, জেলার লালপুরের লক্ষ্মণবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক জাকির হোসেন চিঠি লেখা সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে দীর্ঘ দিন থেকে সবুজ আমের গায়ে জাতীয় পতাকার আদলে চিঠি লিখে মন্ত্রী-এমপি, লেখক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্টজনদের কাছে পৌঁছে দেন। এছাড়া ভাষা দিবসে বর্ণমালার বই বিলি করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।