ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পিপিপি’তেই সংকটের সমাধান: সালমান এফ রহমান

ভবিষ্যতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ছাড়া বাংলাদেশের কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে ‘দ্য রোল অব পিপিপি ইন এচিভিং ভিশন ২০৪১’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করে বলেন, বর্তমানে যে বৈশ্বিক অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে পিপিপি’র মধ্যেই সেই সংকটের সমাধান রয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, স্বাধীনতার সময় আমাদের ছিল জিরো রিজার্ভ। আমরা জিটুজি(সরকারের সঙ্গে সরকারের) প্রক্রিয়ায় আমদানি করতাম। সে সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে আমি দেখা করেছিলাম। তাঁকে বলেছিলাম, যেহেতু সরকারী ফান্ডের সমস্যা, আমরা বেসরকারি খাতে মুভ করছি না কেনো? উনি বলেছিলেন, তোমরা এটা করতে পারো। তবে তোমাদেরকে ৬০% ট্র্যাডিশনাল এবং ৪০% নন-ট্র্যাডিশনাল পণ্য রপ্তানি করতে হবে। উনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নয়ন চাইলে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ঠিক একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায় এলেন ৯৬ সালে, বেসরকারি বিমান সংস্থাকে লাইসেন্স দেন। আমি যেটা বলতে চাই, আজকে যে ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, এর মূল কারণ অনেকগুলি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরই আমরা আমাদের অর্থনৈতিক গ্রোথটা করতে পেরেছি।

সালমান এফ রহমান বলেন, আজকে আমাদের যে পাওয়ার জেনারেশন ক্যাপাসিটি আছে, তার ৫৪ শতাংশ বেসরকারি খাতের। বেসরকারি খাতকে আনতে চাইলে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে যেভাবে কাজ হয়েছে আমি মনে করি, পিপিপি অথরিটিতেও এভাবে কাজ করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, দু’টো সমস্যা আছে। একটা হল, পিপিপি অথরিটির কাজ প্রজেক্টের প্রস্তাব খোঁজা। যারা প্রস্তাব দিচ্ছে, তার বলছে যদি পাই এটা আমি করব। দেখা গেল কাজ পাওয়ার পর তারা ফাইনান্সিং খুঁজে বেড়াচ্ছে, ইনভেস্টর খুঁজে বেড়াচ্ছে। এটা একটা সমস্যা।

এ সমস্যার সমাধানে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যে প্রস্তাব দিবে, তার কাছে এভিডেন্স চাইতে হবে। সে জানাবে তার কাছে ইক্যুইটি কাছে, ঋণ নেওয়ার উৎস্ও আছে। তাহলে আর সমস্যা হবে না। বাস্তবিক অর্থেই পিপিপির অনেক সুযোগ আছে। এখন যখন আমাদের রিজার্ভ কমে আসছে, যে ইকোনমিক কন্ডিশন গ্লোবালি, এ অবস্থায় আমাদের পিপিপি প্রজেক্টের দিকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।

দ্বিতীয় সমস্যা নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, টেকনোলজির মাধ্যমে সঠিকতা যাচাইয়ে আমাদের গ্যাপ আছে। আমরা কাগজে কলমে দেখি তাদের সক্ষমতা আছে। কন্ট্রাক্ট দিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায়, তাদের সক্ষমতা নেই। প্রুভেন টেকনোলজি কাজে লাগাতে হবে। নিশ্চিতভাবে জানতে হবে , যে কাজ নিচ্ছে তার ফিনান্সিং করার ক্ষমতা আছে।

এছাড়া ঋণখেলাপী সমস্যার সমাধানে ব্যাংকিং আইন পরিবর্তনের কথা বলেন, করদাতা জনগোষ্ঠীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন ঘটে বঙ্গবন্ধুর আমলে। তখন, পিপিপি বলা হত না। বারডেম হাসপাতাল, মেঘনা পাওয়ারপ্ল্যান্ট, হরিপুর পাওয়ারপ্ল্যান্টসহ নানা প্রকল্পের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট খাতকে আমরা ড্রাইভিং সিটে বসাবো। বৎসর অনুযায়ী কোন বছর কত বিনিয়োগ হবে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ আর বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ১৫ শতাংশ। ২০১০ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বেশিরভাগ প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ, আর বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ৮৫ শতাংশ।

শামসুল আলম বলেন, পিপিপি’র পাইপলাইনে থাকা ৭৭টা কোম্পানির আকার ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এসডিজি এ্যাকশন প্ল্যান করার সময় প্রাইভেট সেক্টর ৪২ শতাংশ, পাবলিক সেক্টর ৩৫ শতাংশ এবং পিপিপিতে রাখা হয়েছে ৫.৯ শতাংশ। পিপিপিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে ১৭টা মন্ত্রণালয়, ২৬ টা এজেন্সি।

এতোকিছুর পরেও পিপিপি বাস্তবায়নে আমাদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিপিপি বাস্তবায়নে আমাদের লাগে ২৪ মাস আর উন্নত দেশের লাগে ১৪ মাস।

এ পরিস্থিতির উন্নিতিকল্পে প্রাইভেট সেক্টরকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঝিলমিল প্রকল্প, পূর্বাচলে পানির সংযোগের কথা উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ওরিয়ন গ্রুপ করছে। এটাকে আমরা আরোও বাড়াবো। মোট জিডিপির ১.৫ শতাংশ পিপিপি থেকে আসুক, এটা আমরা প্রস্তাব রেখেছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবের বিষয় হল, আমরা পুরো দেশকে সড়ক অবকাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। এখন এই সুবিধা যে কেউ কাজে লাগাতে পারে। আমরা পিপিপিতে যাব, কারণ, সরকারের পক্ষে একা বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, পিপিপিতে সবার বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের সঙ্গে একমত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে সরকারকে। কোন দ্বিমত থাকা যাবে না। পিপিপি করেছি যেন আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

পিপিপি অথরিটির সিইও মোহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, পিপিপি প্রজেক্ট করতে গেলে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে আস্থাহীনতা। সরকার বিশ্বাস করছে না প্রাইভেট সেক্টরকে। প্রাইভেট সেক্টর বিশ্বাস করছে না সরকারকে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, পিপিপির যে পার্টনার তাকে আমরা পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করি না, তাকে আমরা কন্ট্রাক্টর হিসেবে দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের চলমান যে প্রজেক্ট আছে, এগুলোর সুফল যখন পেতে শুরু করব, তখন সবার আস্থা ফিরবে।

আলোচনা সভায় মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সিইই নাসের এজাজ। প্যানেল আলোচনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, পিপিপির উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাসান হায়দার, এফবিসিসিআই প্যানেল উপদেষ্টা ড. শামসুল হক এবং এফবিসিসিআই পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয়

পিপিপি’তেই সংকটের সমাধান: সালমান এফ রহমান

প্রকাশিত: ০৯:৩৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২

ভবিষ্যতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ছাড়া বাংলাদেশের কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে ‘দ্য রোল অব পিপিপি ইন এচিভিং ভিশন ২০৪১’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করে বলেন, বর্তমানে যে বৈশ্বিক অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে পিপিপি’র মধ্যেই সেই সংকটের সমাধান রয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, স্বাধীনতার সময় আমাদের ছিল জিরো রিজার্ভ। আমরা জিটুজি(সরকারের সঙ্গে সরকারের) প্রক্রিয়ায় আমদানি করতাম। সে সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে আমি দেখা করেছিলাম। তাঁকে বলেছিলাম, যেহেতু সরকারী ফান্ডের সমস্যা, আমরা বেসরকারি খাতে মুভ করছি না কেনো? উনি বলেছিলেন, তোমরা এটা করতে পারো। তবে তোমাদেরকে ৬০% ট্র্যাডিশনাল এবং ৪০% নন-ট্র্যাডিশনাল পণ্য রপ্তানি করতে হবে। উনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নয়ন চাইলে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ঠিক একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায় এলেন ৯৬ সালে, বেসরকারি বিমান সংস্থাকে লাইসেন্স দেন। আমি যেটা বলতে চাই, আজকে যে ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, এর মূল কারণ অনেকগুলি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমাদের বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরই আমরা আমাদের অর্থনৈতিক গ্রোথটা করতে পেরেছি।

সালমান এফ রহমান বলেন, আজকে আমাদের যে পাওয়ার জেনারেশন ক্যাপাসিটি আছে, তার ৫৪ শতাংশ বেসরকারি খাতের। বেসরকারি খাতকে আনতে চাইলে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে যেভাবে কাজ হয়েছে আমি মনে করি, পিপিপি অথরিটিতেও এভাবে কাজ করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, দু’টো সমস্যা আছে। একটা হল, পিপিপি অথরিটির কাজ প্রজেক্টের প্রস্তাব খোঁজা। যারা প্রস্তাব দিচ্ছে, তার বলছে যদি পাই এটা আমি করব। দেখা গেল কাজ পাওয়ার পর তারা ফাইনান্সিং খুঁজে বেড়াচ্ছে, ইনভেস্টর খুঁজে বেড়াচ্ছে। এটা একটা সমস্যা।

এ সমস্যার সমাধানে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যে প্রস্তাব দিবে, তার কাছে এভিডেন্স চাইতে হবে। সে জানাবে তার কাছে ইক্যুইটি কাছে, ঋণ নেওয়ার উৎস্ও আছে। তাহলে আর সমস্যা হবে না। বাস্তবিক অর্থেই পিপিপির অনেক সুযোগ আছে। এখন যখন আমাদের রিজার্ভ কমে আসছে, যে ইকোনমিক কন্ডিশন গ্লোবালি, এ অবস্থায় আমাদের পিপিপি প্রজেক্টের দিকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।

দ্বিতীয় সমস্যা নিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, টেকনোলজির মাধ্যমে সঠিকতা যাচাইয়ে আমাদের গ্যাপ আছে। আমরা কাগজে কলমে দেখি তাদের সক্ষমতা আছে। কন্ট্রাক্ট দিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায়, তাদের সক্ষমতা নেই। প্রুভেন টেকনোলজি কাজে লাগাতে হবে। নিশ্চিতভাবে জানতে হবে , যে কাজ নিচ্ছে তার ফিনান্সিং করার ক্ষমতা আছে।

এছাড়া ঋণখেলাপী সমস্যার সমাধানে ব্যাংকিং আইন পরিবর্তনের কথা বলেন, করদাতা জনগোষ্ঠীর আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধন ঘটে বঙ্গবন্ধুর আমলে। তখন, পিপিপি বলা হত না। বারডেম হাসপাতাল, মেঘনা পাওয়ারপ্ল্যান্ট, হরিপুর পাওয়ারপ্ল্যান্টসহ নানা প্রকল্পের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট খাতকে আমরা ড্রাইভিং সিটে বসাবো। বৎসর অনুযায়ী কোন বছর কত বিনিয়োগ হবে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ আর বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ১৫ শতাংশ। ২০১০ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বেশিরভাগ প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ, আর বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ৮৫ শতাংশ।

শামসুল আলম বলেন, পিপিপি’র পাইপলাইনে থাকা ৭৭টা কোম্পানির আকার ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এসডিজি এ্যাকশন প্ল্যান করার সময় প্রাইভেট সেক্টর ৪২ শতাংশ, পাবলিক সেক্টর ৩৫ শতাংশ এবং পিপিপিতে রাখা হয়েছে ৫.৯ শতাংশ। পিপিপিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে ১৭টা মন্ত্রণালয়, ২৬ টা এজেন্সি।

এতোকিছুর পরেও পিপিপি বাস্তবায়নে আমাদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিপিপি বাস্তবায়নে আমাদের লাগে ২৪ মাস আর উন্নত দেশের লাগে ১৪ মাস।

এ পরিস্থিতির উন্নিতিকল্পে প্রাইভেট সেক্টরকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঝিলমিল প্রকল্প, পূর্বাচলে পানির সংযোগের কথা উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ওরিয়ন গ্রুপ করছে। এটাকে আমরা আরোও বাড়াবো। মোট জিডিপির ১.৫ শতাংশ পিপিপি থেকে আসুক, এটা আমরা প্রস্তাব রেখেছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবের বিষয় হল, আমরা পুরো দেশকে সড়ক অবকাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। এখন এই সুবিধা যে কেউ কাজে লাগাতে পারে। আমরা পিপিপিতে যাব, কারণ, সরকারের পক্ষে একা বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, পিপিপিতে সবার বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের সঙ্গে একমত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে সরকারকে। কোন দ্বিমত থাকা যাবে না। পিপিপি করেছি যেন আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

পিপিপি অথরিটির সিইও মোহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, পিপিপি প্রজেক্ট করতে গেলে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে আস্থাহীনতা। সরকার বিশ্বাস করছে না প্রাইভেট সেক্টরকে। প্রাইভেট সেক্টর বিশ্বাস করছে না সরকারকে। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, পিপিপির যে পার্টনার তাকে আমরা পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করি না, তাকে আমরা কন্ট্রাক্টর হিসেবে দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের চলমান যে প্রজেক্ট আছে, এগুলোর সুফল যখন পেতে শুরু করব, তখন সবার আস্থা ফিরবে।

আলোচনা সভায় মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সিইই নাসের এজাজ। প্যানেল আলোচনা করেন পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, পিপিপির উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাসান হায়দার, এফবিসিসিআই প্যানেল উপদেষ্টা ড. শামসুল হক এবং এফবিসিসিআই পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী।