ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জব্দ মাদক বিক্রিতে পুলিশ

কোনো পেশাদার মাদক কারবারি কিংবা সাধারণ মানুষ নয়, এবার অভিযানে জব্দ করা বিদেশি মদ-বিয়ার মাদকসেবীদের কাছে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের দুজন সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি মাদকের স্বর্গরাজ্যখ্যাত সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। তাদের একজনের নাম হৃদয় বলে জানা যায়। খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে, মাদকসহ একটি অটোরিকশা আটক ও পরে মিয়ানমারে তৈরি ‘মারদালাই রাম’ মদ বিক্রিসংক্রান্ত একাধিক অডিও এবং ভিডিও। এসব প্রমাণ সময়ের আলোর কাছে সংরক্ষিত আছে। ওই অডিওতে টাকার বিনিময়ে মাদকসহ আটক অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা স্পষ্ট শোনা যায়। তবে ভিডিওতে সরাসরি পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। কিন্তু ভিডিওতে একটি ইজিবাইকের চালকের আসনে এক বোতল মদসহ বসা এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘হোয়াইক্যং ফাঁড়ির দুই পুলিশ তাকে ওই মদের বোতলটি দিয়েছে। লোকজন জড়ো হতে দেখে তারা পালিয়ে গেছে।’ যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং কক্সবাজার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা যা বলছেন : স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর হোয়াইক্যং এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাসহ বেশকিছু বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছিলেন ওই ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এক দল পুলিশ সদস্য। যদিও সেই মাদক অফিসিয়ালি জব্দ দেখানো হয়নি। এ ছাড়া যে অটোরিকশা (বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ) জব্দ করা হয়েছিল সেটিও ফাঁড়ির এক সোর্সের (দালাল) মধ্যস্থতায় ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, ওই অটোরিকশার চালকের নাম বেলাল হোসেন এবং মালিকের নাম রায়হান।

এ ছাড়া ওই ঘটনার সূত্র ধরে পরে গত ৪ জানুয়ারি ৮টার দিকে হোয়াইক্যং স্টেশন এলাকায় ওই দুই কনস্টেবল সিভিলে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বিদেশি মদ বিক্রির সময় স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে। তবে এ সময় তাদের গায়ে পুলিশ লেখা গেঞ্জি কাপড়ের নীল রঙের জ্যাকেট ছিল। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই সময় তাদের গাড়িসহ ঘেরাও করলে একটি বিদেশি মদের বোতল ও পুলিশ লেখা জ্যাকেট ফেলেই ওই পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

গত ২৮ ডিসেম্বরের ওই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অটোরিকশার মালিক হোয়াইক্যংয়ের মরিচ্যার বাসিন্দা রায়হান মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে বলেন, ‘বেলাল নামের এক ড্রাইভার আমার অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন। প্রায় মাস দেড়-দুই হবে, ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলার সময় শুনতে পাই বার্মিজ মদসহ নাকি হোয়াইক্যং ফাঁড়ির পুলিশ ধরেছে। ড্রাইভার সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এখনও তার সন্ধান পাইনি। এরপর ফাঁড়ি ‘ম্যানেজ’ করে গাড়ি ছাড়িয়ে আনি। ৫৫ হাজার টাকা সেখানে দিতে হয়েছে, আরও ৪-৫ হাজার টাকা অন্যান্য খরচ হয়েছে।’ তবে এ ঘটনাটি সাংবাদিক কীভাবে জানল সে প্রশ্ন করেন এবং তার বিষয়টি জানাজানি হলে ঝামেলায় পড়বেন কি না সেটা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রায়হান।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ৪ জানুয়ারি মদ বিক্রি করতে গিয়ে দুই কনস্টেবল জনতার হাতে আটক হওয়ার পর থেকে স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা চলছে। তবে স্থানীয়রা ভয়ে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলছেন না। বিষয়টির তদন্ত চলমান। তদন্তকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটি আড়াল করতে বা অভিযোগ মিথ্যা সাজাতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকজনকে কাজে লাগিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

ভিডিও-অডিওতে যা পাওয়া গেছে : সময়ের আলোর হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নীলচে সাদা রঙের জিন্স প্যান্টের সঙ্গে নীল রঙের সোয়েটার ও গলায় জড়ানো লাল-কালো মাফলার এবং সোনালি-খয়েরি রঙের চাদর পরা আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সি এক তরুণের হাতে ছিল একটি বোতল (মিয়ানমারে তৈরি ‘মারদালাই রাম’ মদ)। ইজিবাইকের চালকের আসনে বসে থাকা ওই তরুণ উপস্থিত জনতার প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ভাষায় বলছিলেন, ‘বোতলটি পুলিশ দিয়েছে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির। আমি ওই পথে ইজিবাইক নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সংকেত দিয়ে আমাকে থামিয়ে ফাঁড়ির ওইজন গাড়িতে ওঠেন।’ এখন সেই পুলিশ কোথায় এমন প্রশ্ন করা হলে, কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ওই তরুণ বলছিলেন, ‘পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে গেছে। মোটরবাইক নিয়ে পরে কেউ এসেছিল।’ তবে ভিডিওতে সরাসরি কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এ ছাড়া এ ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি অডিও রেকর্ডও এসেছে সময়ের আলোর হাতে, যেখানে একজন ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশাটির মালিককে কথা বলতে শোনা যায়। সেই কথোপকথনে ২৮ ডিসেম্বর হোয়াইক্যং ফাঁড়ির হাতে আটক মদ ও বিয়ারের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রসঙ্গও আছে। অটোরিকশাটি ছাড়াতে ৫৫ হাজার টাকা ফাঁড়িতে দিতে হয় বলে শোনা যায়। এ ছাড়া অটোরিকশাটি বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজের এবং চালক হিসেবে বেলাল নামের একজনের নাম উচ্চারণ করা হয় কথোপকথনে।

অভিযোগ মিথ্যা-সাজানো, বলছে পুলিশ : এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা হলে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুকনুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, এ ঘটনাগুলোকে নিয়ে আমাদের সার্কেল স্যার (উখিয়া সার্কেল) তদন্ত করছেন। তদন্ত রিপোর্ট হয়েছে, সেটা এসপি স্যারের কাছে চলে গেছে। এগুলো ‘মেকিং’ (সাজানো) করা হয়েছিল। কেউ এগুলো হয়তো করেছিল। এ ব্যাপারে কোনো কিছু প্রমাণ হয়নি। বিষয়টি ‘সলভ’ (সমাধান) হয়েছে।’ এ ছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর মদসহ অটোরিকশা আটকের প্রসঙ্গে রুকনুজ্জামান বলেন, এ রকম কোনো কিছু না। এগুলো সব ‘মেকিং’ ছিল। এ ব্যাপারে ‘অলরেডি’ তদন্ত হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের উখিয়া সার্কেল প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ বলেছেন, ওই ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান। পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনা সত্য বা মিথ্যার কিছু না। ওই রকম কোনো অভিযোগও না। এটার অন্য ব্যাপার আছে। এটার সঙ্গে পুলিশ জড়িত না। এগুলো ওখানকার (হোয়াইক্যং) সোর্সদের কাজ। হোয়াইক্যং হচ্ছে পুরো মাদক এলাকা। অধিকাংশ লোক মাদক ব্যবসা করে। পুলিশ ওই কাজগুলো করেনি। আমি ঘটনাটি জানার পর ‘ঘাঁটাঘাঁটি’ করে দেখছি, এটা সোর্সদের কাজ। যারা এ অভিযোগ সাজিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয়

জব্দ মাদক বিক্রিতে পুলিশ

প্রকাশিত: ০৪:৪৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

কোনো পেশাদার মাদক কারবারি কিংবা সাধারণ মানুষ নয়, এবার অভিযানে জব্দ করা বিদেশি মদ-বিয়ার মাদকসেবীদের কাছে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের দুজন সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি মাদকের স্বর্গরাজ্যখ্যাত সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। তাদের একজনের নাম হৃদয় বলে জানা যায়। খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজখবর নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে, মাদকসহ একটি অটোরিকশা আটক ও পরে মিয়ানমারে তৈরি ‘মারদালাই রাম’ মদ বিক্রিসংক্রান্ত একাধিক অডিও এবং ভিডিও। এসব প্রমাণ সময়ের আলোর কাছে সংরক্ষিত আছে। ওই অডিওতে টাকার বিনিময়ে মাদকসহ আটক অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা স্পষ্ট শোনা যায়। তবে ভিডিওতে সরাসরি পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। কিন্তু ভিডিওতে একটি ইজিবাইকের চালকের আসনে এক বোতল মদসহ বসা এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘হোয়াইক্যং ফাঁড়ির দুই পুলিশ তাকে ওই মদের বোতলটি দিয়েছে। লোকজন জড়ো হতে দেখে তারা পালিয়ে গেছে।’ যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং কক্সবাজার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়রা যা বলছেন : স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর হোয়াইক্যং এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাসহ বেশকিছু বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছিলেন ওই ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এক দল পুলিশ সদস্য। যদিও সেই মাদক অফিসিয়ালি জব্দ দেখানো হয়নি। এ ছাড়া যে অটোরিকশা (বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ) জব্দ করা হয়েছিল সেটিও ফাঁড়ির এক সোর্সের (দালাল) মধ্যস্থতায় ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, ওই অটোরিকশার চালকের নাম বেলাল হোসেন এবং মালিকের নাম রায়হান।

এ ছাড়া ওই ঘটনার সূত্র ধরে পরে গত ৪ জানুয়ারি ৮টার দিকে হোয়াইক্যং স্টেশন এলাকায় ওই দুই কনস্টেবল সিভিলে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বিদেশি মদ বিক্রির সময় স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে। তবে এ সময় তাদের গায়ে পুলিশ লেখা গেঞ্জি কাপড়ের নীল রঙের জ্যাকেট ছিল। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই সময় তাদের গাড়িসহ ঘেরাও করলে একটি বিদেশি মদের বোতল ও পুলিশ লেখা জ্যাকেট ফেলেই ওই পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

গত ২৮ ডিসেম্বরের ওই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অটোরিকশার মালিক হোয়াইক্যংয়ের মরিচ্যার বাসিন্দা রায়হান মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে বলেন, ‘বেলাল নামের এক ড্রাইভার আমার অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন। প্রায় মাস দেড়-দুই হবে, ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলার সময় শুনতে পাই বার্মিজ মদসহ নাকি হোয়াইক্যং ফাঁড়ির পুলিশ ধরেছে। ড্রাইভার সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এখনও তার সন্ধান পাইনি। এরপর ফাঁড়ি ‘ম্যানেজ’ করে গাড়ি ছাড়িয়ে আনি। ৫৫ হাজার টাকা সেখানে দিতে হয়েছে, আরও ৪-৫ হাজার টাকা অন্যান্য খরচ হয়েছে।’ তবে এ ঘটনাটি সাংবাদিক কীভাবে জানল সে প্রশ্ন করেন এবং তার বিষয়টি জানাজানি হলে ঝামেলায় পড়বেন কি না সেটা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রায়হান।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ৪ জানুয়ারি মদ বিক্রি করতে গিয়ে দুই কনস্টেবল জনতার হাতে আটক হওয়ার পর থেকে স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা চলছে। তবে স্থানীয়রা ভয়ে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলছেন না। বিষয়টির তদন্ত চলমান। তদন্তকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনাটি আড়াল করতে বা অভিযোগ মিথ্যা সাজাতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বেশ কয়েকজনকে কাজে লাগিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

ভিডিও-অডিওতে যা পাওয়া গেছে : সময়ের আলোর হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নীলচে সাদা রঙের জিন্স প্যান্টের সঙ্গে নীল রঙের সোয়েটার ও গলায় জড়ানো লাল-কালো মাফলার এবং সোনালি-খয়েরি রঙের চাদর পরা আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সি এক তরুণের হাতে ছিল একটি বোতল (মিয়ানমারে তৈরি ‘মারদালাই রাম’ মদ)। ইজিবাইকের চালকের আসনে বসে থাকা ওই তরুণ উপস্থিত জনতার প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ভাষায় বলছিলেন, ‘বোতলটি পুলিশ দিয়েছে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির। আমি ওই পথে ইজিবাইক নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সংকেত দিয়ে আমাকে থামিয়ে ফাঁড়ির ওইজন গাড়িতে ওঠেন।’ এখন সেই পুলিশ কোথায় এমন প্রশ্ন করা হলে, কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ওই তরুণ বলছিলেন, ‘পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে গেছে। মোটরবাইক নিয়ে পরে কেউ এসেছিল।’ তবে ভিডিওতে সরাসরি কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এ ছাড়া এ ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি অডিও রেকর্ডও এসেছে সময়ের আলোর হাতে, যেখানে একজন ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশাটির মালিককে কথা বলতে শোনা যায়। সেই কথোপকথনে ২৮ ডিসেম্বর হোয়াইক্যং ফাঁড়ির হাতে আটক মদ ও বিয়ারের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রসঙ্গও আছে। অটোরিকশাটি ছাড়াতে ৫৫ হাজার টাকা ফাঁড়িতে দিতে হয় বলে শোনা যায়। এ ছাড়া অটোরিকশাটি বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজের এবং চালক হিসেবে বেলাল নামের একজনের নাম উচ্চারণ করা হয় কথোপকথনে।

অভিযোগ মিথ্যা-সাজানো, বলছে পুলিশ : এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা হলে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রুকনুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, এ ঘটনাগুলোকে নিয়ে আমাদের সার্কেল স্যার (উখিয়া সার্কেল) তদন্ত করছেন। তদন্ত রিপোর্ট হয়েছে, সেটা এসপি স্যারের কাছে চলে গেছে। এগুলো ‘মেকিং’ (সাজানো) করা হয়েছিল। কেউ এগুলো হয়তো করেছিল। এ ব্যাপারে কোনো কিছু প্রমাণ হয়নি। বিষয়টি ‘সলভ’ (সমাধান) হয়েছে।’ এ ছাড়া গত ২৮ ডিসেম্বর মদসহ অটোরিকশা আটকের প্রসঙ্গে রুকনুজ্জামান বলেন, এ রকম কোনো কিছু না। এগুলো সব ‘মেকিং’ ছিল। এ ব্যাপারে ‘অলরেডি’ তদন্ত হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের উখিয়া সার্কেল প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ বলেছেন, ওই ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান। পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনা সত্য বা মিথ্যার কিছু না। ওই রকম কোনো অভিযোগও না। এটার অন্য ব্যাপার আছে। এটার সঙ্গে পুলিশ জড়িত না। এগুলো ওখানকার (হোয়াইক্যং) সোর্সদের কাজ। হোয়াইক্যং হচ্ছে পুরো মাদক এলাকা। অধিকাংশ লোক মাদক ব্যবসা করে। পুলিশ ওই কাজগুলো করেনি। আমি ঘটনাটি জানার পর ‘ঘাঁটাঘাঁটি’ করে দেখছি, এটা সোর্সদের কাজ। যারা এ অভিযোগ সাজিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’