ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এবার তৃণমূলে পাল্টাপাল্টি

আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বিএনপি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ১০:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • 157

এবার রাজপথ নয়- একেবারে তৃণমূলে শোডাউন করবে প্রধান দুই দল। আগামী শনিবার সারাদেশের ইউনিয়নগুলোতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এক দিন পর বৈঠক করে একই দিন ‘শান্তি সমাবেশ’ করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ

আটঘাট বেঁধে সরকারবিরোধী এক দফা আন্দোলনে নামছে বিএনপি। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, কৃষক, মজুর, পেশাজীবীকে এক সুতোয় গাঁথার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে জাগাবে দলটি।

সারাদেশের ৪ হাজার ৫৭১ ইউনিয়নে ৪১ হাজার ১৩৯টি ওয়ার্ড। ওইদিন একযোগে এসব ওয়ার্ড থেকে মিছিল বের করে ইউনিয়ন সদরে যাবেন নেতাকর্মী। সেখান থেকে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু হবে। কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত এ পদযাত্রা করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপি সূত্র জানায়, ঘোষিত ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি সরকার পতনের আন্দোলনকে একেবারে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। তাঁর নির্দেশনায় এরই মধ্যে উপজেলা, জেলা পর্যায়ের নেতারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। কর্মসূচি সফল করতে উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে পথসভা, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রচার মিছিলসহ নেতাকর্মী প্রস্তুতি বৈঠক করছেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
আয়োজন চলছে ওয়ার্ড আর ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচিতে নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের ঢল নামানোর।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম কমানো, খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীর মুক্তি, আওয়ামী সন্ত্রাস ও সরকারের দমন-নিপীড়ন বন্ধ, গণতন্ত্রবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলনের একটা নির্দিষ্ট ধারা, বিজ্ঞান ও একটা নির্দিষ্ট রসায়ন আছে। এরই মধ্যে জনগণ জেগে উঠেছে। অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। সব দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আরও হবে। এ ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে জনগণই আন্দোলনের পথ দেখাবে- কোন পথে গেলে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারব। সে জন্যই তাঁরা বারবার জনগণের কাছে ফিরে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাতে ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। এ বৈঠকে ইউনিয়ন পদযাত্রা সফল করতে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ওইদিন শুধু জেলা, উপজেলার নেতারা নন, কেন্দ্রীয় নেতাদেরও কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এলাকাভিত্তিক যেসব নেতা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন, সেসব নেতার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরও এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র্র থেকে তদারক টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। যেসব এলাকায় ঢিলেঢালা ও দায়সারা কর্মসূচি পালন করা হবে, সেসব এলাকার নেতাদের কৈফিয়তের তালিকায় নেওয়া হবে। আগামীতে পদ-পদবি কিংবা মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়ে ভিন্ন চিন্তা করা হবে বলেও এক ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। যাঁরা এলাকায় যাবেন না, কিংবা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন না, তাঁদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ভেঙে দেওয়া হবে ওই কমিটি। এতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এমনকি জেলা কমিটিকেও দায় নিতে হবে বলে দলের হাইকমান্ড থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি সফলের পর পরই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। নেতাকর্মীকে প্রস্তুত করার পর সময় ও সুযোগ বুঝে সরকার পতনের এক দফা নিয়ে মাঠে নামতে চান তাঁরা।

গত ২২ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ১০ বিভাগীয় সমাবেশ, ঢাকা মহানগরে ১৬ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বালনসহ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই ৩৫টির বেশি সমাবেশ করেছে দলটি। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী রাখতে চায় বিএনপি, যাতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সফল করা যায়।

তবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা জানান, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পদযাত্রা ঘিরে সারাদেশে নেতাকর্মীর ওপর হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। গতকাল মানিকগঞ্জে প্রস্ততি পর্যালোচনার জন্য আগত শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির মিয়া, শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা, একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার গণআন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। দমন-নিপীড়ন করে জনগণ এবং নেতাকর্মীর ভয় দেখানো যাবে না। যারা সমাবেশ, পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ভয় পায়, তারা জনবিচ্ছিন্ন এবং আন্দোলনের ভয়ে ভীত। এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার ওপর থেকে ছায়াও সরে যাচ্ছে। এ জন্য তারা দমন-নিপীড়ন করে আন্দোলন দমনের পথ বেছে নিয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, শত বাধা, হামলা-মামলা আর ভয়কে উপেক্ষা করে তৃণমূলে ফের নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁদের চাঙ্গা রাখতেও ভিন্নধর্মী এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলটির ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতেও বারবার তৃণমূলে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত ওয়ার্মআপ করা হবে।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয়

এবার তৃণমূলে পাল্টাপাল্টি

আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বিএনপি

প্রকাশিত: ১০:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

এবার রাজপথ নয়- একেবারে তৃণমূলে শোডাউন করবে প্রধান দুই দল। আগামী শনিবার সারাদেশের ইউনিয়নগুলোতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এক দিন পর বৈঠক করে একই দিন ‘শান্তি সমাবেশ’ করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ

আটঘাট বেঁধে সরকারবিরোধী এক দফা আন্দোলনে নামছে বিএনপি। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ, কৃষক, মজুর, পেশাজীবীকে এক সুতোয় গাঁথার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে জাগাবে দলটি।

সারাদেশের ৪ হাজার ৫৭১ ইউনিয়নে ৪১ হাজার ১৩৯টি ওয়ার্ড। ওইদিন একযোগে এসব ওয়ার্ড থেকে মিছিল বের করে ইউনিয়ন সদরে যাবেন নেতাকর্মী। সেখান থেকে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা শুরু হবে। কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত এ পদযাত্রা করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপি সূত্র জানায়, ঘোষিত ইউনিয়ন পদযাত্রা কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি সরকার পতনের আন্দোলনকে একেবারে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। তাঁর নির্দেশনায় এরই মধ্যে উপজেলা, জেলা পর্যায়ের নেতারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। কর্মসূচি সফল করতে উঠান বৈঠক, হাট-বাজারে পথসভা, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রচার মিছিলসহ নেতাকর্মী প্রস্তুতি বৈঠক করছেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
আয়োজন চলছে ওয়ার্ড আর ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচিতে নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের ঢল নামানোর।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের দাম কমানো, খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীর মুক্তি, আওয়ামী সন্ত্রাস ও সরকারের দমন-নিপীড়ন বন্ধ, গণতন্ত্রবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এ কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলনের একটা নির্দিষ্ট ধারা, বিজ্ঞান ও একটা নির্দিষ্ট রসায়ন আছে। এরই মধ্যে জনগণ জেগে উঠেছে। অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। সব দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আরও হবে। এ ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে জনগণই আন্দোলনের পথ দেখাবে- কোন পথে গেলে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারব। সে জন্যই তাঁরা বারবার জনগণের কাছে ফিরে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাতে ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। এ বৈঠকে ইউনিয়ন পদযাত্রা সফল করতে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ওইদিন শুধু জেলা, উপজেলার নেতারা নন, কেন্দ্রীয় নেতাদেরও কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এলাকাভিত্তিক যেসব নেতা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন, সেসব নেতার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরও এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র্র থেকে তদারক টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। যেসব এলাকায় ঢিলেঢালা ও দায়সারা কর্মসূচি পালন করা হবে, সেসব এলাকার নেতাদের কৈফিয়তের তালিকায় নেওয়া হবে। আগামীতে পদ-পদবি কিংবা মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়ে ভিন্ন চিন্তা করা হবে বলেও এক ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। যাঁরা এলাকায় যাবেন না, কিংবা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন না, তাঁদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ভেঙে দেওয়া হবে ওই কমিটি। এতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এমনকি জেলা কমিটিকেও দায় নিতে হবে বলে দলের হাইকমান্ড থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি সফলের পর পরই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। নেতাকর্মীকে প্রস্তুত করার পর সময় ও সুযোগ বুঝে সরকার পতনের এক দফা নিয়ে মাঠে নামতে চান তাঁরা।

গত ২২ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ১০ বিভাগীয় সমাবেশ, ঢাকা মহানগরে ১৬ সমাবেশ ও মোমবাতি প্রজ্বালনসহ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই ৩৫টির বেশি সমাবেশ করেছে দলটি। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী রাখতে চায় বিএনপি, যাতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সফল করা যায়।

তবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা জানান, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পদযাত্রা ঘিরে সারাদেশে নেতাকর্মীর ওপর হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। গতকাল মানিকগঞ্জে প্রস্ততি পর্যালোচনার জন্য আগত শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির মিয়া, শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা, একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার গণআন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। দমন-নিপীড়ন করে জনগণ এবং নেতাকর্মীর ভয় দেখানো যাবে না। যারা সমাবেশ, পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে ভয় পায়, তারা জনবিচ্ছিন্ন এবং আন্দোলনের ভয়ে ভীত। এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার ওপর থেকে ছায়াও সরে যাচ্ছে। এ জন্য তারা দমন-নিপীড়ন করে আন্দোলন দমনের পথ বেছে নিয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, শত বাধা, হামলা-মামলা আর ভয়কে উপেক্ষা করে তৃণমূলে ফের নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চান তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁদের চাঙ্গা রাখতেও ভিন্নধর্মী এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলটির ধারাবাহিক কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতেও বারবার তৃণমূলে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। এবারের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত ওয়ার্মআপ করা হবে।