দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্য খাতের ৩২ গুণীজনকে বিশেষ সম্মাননা, উৎসবমুখর পুরো কাঠমান্ডু

দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্যিক শিল্পের অগ্রগতিতে অবদান রাখা গুণীজনদের স্বীকৃতি দিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হলো “এশিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্যিক শিল্পের উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা ও এশিয়ান বিজনেস আইকনিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫”। গত ২৭ জুন (শুক্রবার) নগরীর একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলে দিনব্যাপী এ বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের প্রতিনিধি দল আয়োজনে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা — এই আটটি দেশের সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও পর্যটন খাতের ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। ৩২ জন গুণীজনকে এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিটের পক্ষ থেকে অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামিটের নির্বাহী পরিচালক মো: গোলাম ফারুক মজনু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আইন বাহাদুর শাহী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী আনন্দ প্রসাদ পোখরেল; প্রাদেশিক সংসদ সদস্য ও বাগমতি প্রদেশ পরিষদের সদস্য কাঞ্চন চন্দ্র বাদে; আরপিপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী কুন্তি কুমারী শাহী; ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন মন্ত্রী কৃষ্ণলাল ভদেল; সাবেক সংস্কৃতি, পর্যটন ও বিমান চলাচল মন্ত্রী ও সিপিএন (ইউএমএল)-এর পলিটব্যুরো সদস্য ভানু ভক্ত ঢাকাল এবং মানিরাম ফুয়াল এমপি, সিপিএন (ইউএমএল), বাগমতি প্রাদেশিক কমিটির সদস্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্যোতি কার্কি, পরিচালক, নেপাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি। সঞ্চালনায় ছিলেন নিমলকি শেরপা (নেপাল) এবং নিপা আক্তার (বাংলাদেশ)।

সভাপতির বক্তব্যে মো: গোলাম ফারুক মজনু বলেন, “এশিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্যিক শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় বাড়াতে হবে। সহজ ভিসা প্রাপ্তি, বিদেশি বিনিয়োগে উদার নীতি গ্রহণ ও পর্যটনকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অপরিহার্য।” তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিমান ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক পর্যটনকে আরও গতিশীল করতে সার্কের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অপরের পাশে থাকলে এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতে বিশ্বমানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে।”

বক্তৃতায় সহযোগিতার অঙ্গীকার বিভিন্ন দেশের অতিথিরা তাদের বক্তৃতায় এশিয়ার পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যুব উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

অনুষ্ঠান শেষে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে অংশগ্রহণকারীরা। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের শিল্পীরা একসঙ্গে নৃত্য, সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। রঙিন পোশাক, সুর আর আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বর্ণিল পরিবেশনা উপভোগের পর অতিথিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয় যেখানে ঐতিহ্যবাহী নেপালি খাবারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

পুরো কাঠমান্ডু জুড়ে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় গণমাধ্যম, পর্যটক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বেশ উদ্দীপনা প্রকাশ করে। এই ধরণের সম্মাননা আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে — এমনটাই আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *