কাঁচা রাস্তা ও হাঁটুপানি পেরিয়ে ২২ বছর ধরে শিক্ষার ফেরিওয়ালা এক শিক্ষক

বছরের পথচলায় রাহিমা আক্তার দেখেছেন সময়ের পরিবর্তন, বিদ্যালয়ের পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের পরিবর্তন এবং অভিভাবকদের সচেতনতার পরিবর্তন। কাঁচা রাস্তা, হাঁটুপানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সিডরের ভয়াবহতা, বন্যা, করোনা মহামারি কিংবা শিক্ষকস্বল্পতা কোনোটিই তাঁর দায়িত্ববোধকে থামাতে পারেনি।

এই দীর্ঘ পথচলার পেছনে তিনি কৃতজ্ঞ তাঁর পরিবার, প্রতিবেশী, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি। তাঁদের ভালোবাসা, স্নেহ, সহযোগিতা ও দোয়াকেই নিজের অর্জনের বড় শক্তি মনে করেন তিনি।

দুই দশকের বেশি সময়ের শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর প্রত্যাশা এখনো একই সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাওয়া। আগামী দিনগুলোতেও যেন সুস্থ থেকে একইভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই প্রার্থনাই তাঁর।

একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের হিসাব হয়তো শুধু কত বছর চাকরি করেছেন, তা দিয়ে করা যায় না। সেই হিসাবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কতজন শিক্ষার্থীর জীবনে তিনি আলো জ্বালিয়েছেন, কতজন অভিভাবককে সচেতন করেছেন, কত প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন তারও হিসাব। দক্ষিণ ঝাড়াখালীর কাঁচা পথ ধরে মোসাম্মৎ রাহিমা আক্তারের ২২ বছরের পথচলা তাই শুধু একজন শিক্ষকের চাকরিজীবনের গল্প নয়; এটি প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক দীর্ঘ, নীরব ও নিরলস প্রচেষ্টার গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *