বরগুনায় প্রশাসনকে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

জহিরুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরগুনার আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলার বাদী মন্টু চন্দ্র দাশ হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায্য বিচার পেতে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহসম্পাদক, ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অপর্না রায় দাশ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহতের স্ত্রী শিখা রানীর হাতে নগদ সহায়তা ও উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে পরিবারটির পাশে থাকবেন বলেও ঘোষণা করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপর্ণা রায় দাস।
শুক্রবার ( ২১ মার্চ) দুপুর ১২.০০ টায় বরগুনা পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি কড়ইতলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হওয়া সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ও তার নিহত বাবা মন্টু দাসের বাড়ি পরিদর্শনকালে কথাগুলো বলেছেন, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু। তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে অন্যথায় সারা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় কঠোর আন্দোলনে নামবে।
এ সময় পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, মাগুরার ধর্ষিতা আছিয়ার মত এই মামলাটিও গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সুভাষ চন্দ্র দাস নিহত মন্টু দাসের একটি মেয়ের লেখাপড়া সহ সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছেন।
নিহত মন্টু দাসের বাড়ি পরিদর্শনকালে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ছিলেন,পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ( বরিশাল বিভাগ) অনিক সাহা তন্ময়, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সহ সভাপতি মো. ফজলুল হক মাস্টার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. রেজবুল কবির সহ জেলা বিএনপি ও দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গত ৪ মার্চ মন্টু দাসের সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়েটি অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ৫ মার্চ মন্টু দাস বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। ১১ মার্চ রাতে বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ি স্টাফ কোয়ার্টার দীঘির দক্ষিণ পাশে ঝোপ থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মন্টু চন্দ্র দাশ বরগুনা বাজারের একটি মুরগির দোকানে কর্মচারী ছিলেন। তার পরিবারে দেড় মাস বয়সী এক কন্যা শিশু, চার বছর বয়সী এবং বারো বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন