ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুই বড় দলেই হিরো আলম

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৮:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • 151

এতদিন সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিলেন হিরো আলম। গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন রাজনীতির মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে তিনি। প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির শীর্ষ নেতারা হিরো আলমকে নিয়ে বাক্যবাণে জড়িয়ে পড়েছেন। লড়াকু মনোভাবের জন্য সামাজিক মাধ্যমে অনেকে হিরো আলমকে আরও হিরো বানাচ্ছেন, কেউ জিরো বানানোর চেষ্টাও করছেন। পরিপক্ব রাজনৈতিক ভাষায় পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন হিরো আলম। এখন কৌতূহল, হিরো আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রাজনীতিতে প্রবেশ হিরো আলমের জন্য কঠিন হবে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও তার অবস্থান বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে হিরো আলমকে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

হিরো আলমকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আলোচনার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে। হিরো আলমকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। তারা সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে।

জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ হিরো আলমের কাছেও কতটা অসহায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তার সঙ্গে জিততে হয়। তবে গতকাল তথ্যমন্ত্রী হিরো আলমকে অভিনন্দন জানান।

হিরো আলম বগুড়ার দুটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি আসনে সামান্য ভোটে তিনি পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি গণভোট চেয়েছেন। হারলেও দমে যাননি হিরো আলম। বহু মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন। সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার জবাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিরো আলম।

‘হিরো আলম এখন বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে চলছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে হিরো আলম বলেন, ‘হিরো আলম কারও কান্দের ওপর ভর দিয়ে চলে না। আজকে এত দূর এসেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। নিজের পরিশ্রম, সংগ্রাম করেই আমি হিরো আলম হয়েছি। কারও ওপর ভর করিনি।’

লাইভে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার জানান হিরো আলম। গতকাল তিনি ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচনের মাঠে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে ডাস্টবিনে নিয়ে গেছে। ‘হিরো আলম এখন বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে চলছে’ এসব বক্তব্য জাস্ট টু মাচ। তাদের পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যেখানে হিরো আলমের চ্যালেঞ্জও শুনতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরি সময়ের আলোকে বলেন, হিরো আলম এখন খুবই আলোচিত। তবে তা কতদিন থাকে তা বড় প্রশ্ন। তবে তিনি আমাদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বর্তমান রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এটা বর্তমান বাস্তবতায় সাংঘাতিক কঠিন ব্যাপার। এ যাত্রায় হিরো আলম জয়ী হয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিরোর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভবিষৎ দেখছি না। কারণ বড় দুই দল হয়তো তাকে নিয়ে মাঠে কথা বলবে। কিন্তু মাঠে নেবে না। এমনকি জাতীয় পার্টিও তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে হিরো আলমের। তবে আওয়ামী লীগের দুজন সিনিয়র নেতা হিরো আলমকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি হিরো আলমের বিষয়ে কিছু জানি না। কি কি বক্তব্য দিয়েছে শুনিনি। বিস্তারিত জেনে জানাতে পারব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার মনে করেন, হিরো আলম গুরুত্বপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। হিরো আলমকে অস্বীকার বা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এই বিশ্লেষক সময়ের আলোকে বলেন, হিরো আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তেমন নেই। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি মাঠে নানাভাবে বিচরণ করবেন। আপনি তার কনটেন্ট দেখেন বা না দেখেন। বন্দুক ঠেকিয়ে তো তিনি কাউকে কিছু দেখাচ্ছেন না। আমাদের চলমান সমাজে চাহিদা আছে বলেই হিরো আলম আলোচনায়।’

সার্বিক বিষয়ে হিরো আলম সময়ের আলোকে বলেন, আমি জিরো হয়ে যাব না। আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের পরিকল্পনা নেই। দলে গেলে আপনাদের জানাব। তবে জাতীয় পার্টিতে আর যাব না। তারা বেঈমান, গাদ্দার। পাঁচ বছর রাজনীতি করার পরও তারা আমাকে অস্বীকার করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি এখন নানা কথা বলবে, বলুক। এই নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা হচ্ছে। হিরো আলম বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালেও হিরো আলম বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। এবার তিনি ‘ভোটারদের চাওয়ার মুখে’ বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকেও প্রার্থী হন। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের মতো উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান হিরো আলম।

বগুড়ার ক্যাবল অপারেটর মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম নিজের মতো করে গান গেয়ে ও মিউজিক ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে দেশ এবং দেশের বাইরেও এখন পরিচিত। তিনি রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। তারপর পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে। তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। হিরোর কথা, ভাষা, রুচিবোধ ও প্রজ্ঞা নিয়ে কয়েক দিন আগেও অনেকে আপত্তি তুলেছেন। তার তৈরি ভিডিও দেখে হাসাহাসিও করেছেন, এখন তা দূর অতীত।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয়

দুই বড় দলেই হিরো আলম

প্রকাশিত: ০৮:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

এতদিন সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিলেন হিরো আলম। গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন রাজনীতির মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে তিনি। প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির শীর্ষ নেতারা হিরো আলমকে নিয়ে বাক্যবাণে জড়িয়ে পড়েছেন। লড়াকু মনোভাবের জন্য সামাজিক মাধ্যমে অনেকে হিরো আলমকে আরও হিরো বানাচ্ছেন, কেউ জিরো বানানোর চেষ্টাও করছেন। পরিপক্ব রাজনৈতিক ভাষায় পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন হিরো আলম। এখন কৌতূহল, হিরো আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রাজনীতিতে প্রবেশ হিরো আলমের জন্য কঠিন হবে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও তার অবস্থান বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে হিরো আলমকে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

হিরো আলমকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আলোচনার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে। হিরো আলমকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। তারা সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে।

জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আওয়ামী লীগ হিরো আলমের কাছেও কতটা অসহায়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তার সঙ্গে জিততে হয়। তবে গতকাল তথ্যমন্ত্রী হিরো আলমকে অভিনন্দন জানান।

হিরো আলম বগুড়ার দুটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি আসনে সামান্য ভোটে তিনি পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি গণভোট চেয়েছেন। হারলেও দমে যাননি হিরো আলম। বহু মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন। সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসার জবাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিরো আলম।

‘হিরো আলম এখন বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে চলছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে হিরো আলম বলেন, ‘হিরো আলম কারও কান্দের ওপর ভর দিয়ে চলে না। আজকে এত দূর এসেছি, কেউ সহযোগিতা করেনি। নিজের পরিশ্রম, সংগ্রাম করেই আমি হিরো আলম হয়েছি। কারও ওপর ভর করিনি।’

লাইভে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার জানান হিরো আলম। গতকাল তিনি ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচনের মাঠে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সময়ের আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিকে ডাস্টবিনে নিয়ে গেছে। ‘হিরো আলম এখন বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে চলছে’ এসব বক্তব্য জাস্ট টু মাচ। তাদের পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যেখানে হিরো আলমের চ্যালেঞ্জও শুনতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরি সময়ের আলোকে বলেন, হিরো আলম এখন খুবই আলোচিত। তবে তা কতদিন থাকে তা বড় প্রশ্ন। তবে তিনি আমাদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বর্তমান রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এটা বর্তমান বাস্তবতায় সাংঘাতিক কঠিন ব্যাপার। এ যাত্রায় হিরো আলম জয়ী হয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিরোর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভবিষৎ দেখছি না। কারণ বড় দুই দল হয়তো তাকে নিয়ে মাঠে কথা বলবে। কিন্তু মাঠে নেবে না। এমনকি জাতীয় পার্টিও তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে হিরো আলমের। তবে আওয়ামী লীগের দুজন সিনিয়র নেতা হিরো আলমকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

পরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি হিরো আলমের বিষয়ে কিছু জানি না। কি কি বক্তব্য দিয়েছে শুনিনি। বিস্তারিত জেনে জানাতে পারব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার মনে করেন, হিরো আলম গুরুত্বপূর্ণ বলেই রাজনৈতিক দলের নেতারা তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। হিরো আলমকে অস্বীকার বা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এই বিশ্লেষক সময়ের আলোকে বলেন, হিরো আলমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তেমন নেই। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি মাঠে নানাভাবে বিচরণ করবেন। আপনি তার কনটেন্ট দেখেন বা না দেখেন। বন্দুক ঠেকিয়ে তো তিনি কাউকে কিছু দেখাচ্ছেন না। আমাদের চলমান সমাজে চাহিদা আছে বলেই হিরো আলম আলোচনায়।’

সার্বিক বিষয়ে হিরো আলম সময়ের আলোকে বলেন, আমি জিরো হয়ে যাব না। আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের পরিকল্পনা নেই। দলে গেলে আপনাদের জানাব। তবে জাতীয় পার্টিতে আর যাব না। তারা বেঈমান, গাদ্দার। পাঁচ বছর রাজনীতি করার পরও তারা আমাকে অস্বীকার করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি এখন নানা কথা বলবে, বলুক। এই নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা হচ্ছে। হিরো আলম বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

এর আগে ২০১৮ সালেও হিরো আলম বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। এবার তিনি ‘ভোটারদের চাওয়ার মুখে’ বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকেও প্রার্থী হন। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে না পেয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের মতো উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান হিরো আলম।

বগুড়ার ক্যাবল অপারেটর মো. আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম নিজের মতো করে গান গেয়ে ও মিউজিক ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে দেশ এবং দেশের বাইরেও এখন পরিচিত। তিনি রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। তারপর পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করে। তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। হিরোর কথা, ভাষা, রুচিবোধ ও প্রজ্ঞা নিয়ে কয়েক দিন আগেও অনেকে আপত্তি তুলেছেন। তার তৈরি ভিডিও দেখে হাসাহাসিও করেছেন, এখন তা দূর অতীত।