ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কঠোর বিধিনিষেধকালে করোনায় মৃত্যু ২৫৪৯, শনাক্ত প্রায় দেড় লাখ

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ১১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১
  • 48

আটকানো যাচ্ছে না করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা

আটকানো যাচ্ছে না করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। মাঝে সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে দেশে ভাইরাসটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। সে হিসেবে বর্তমানে সংক্রমণের হার দৈনিক প্রতিদিনই প্রায় ৩০ শতাংশের মতো। আর গত চার দিন মৃত্যু দুই শতাধিক।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। যা আরও সাতদিন বাড়িয়ে চলে ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।

যেখানে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি বিধিনিষেধ এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা।

এ সময়ে জরুরি সেবা দেওয়া ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না এই সময়ে। অতি জরুরি প্রয়োজনে ‘বিধিনিষেধের’ সময় বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। পুলিশ জানিয়েছে, বিনা কারণে বাড়ির বাইরে গেলেই গ্রেফতার করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৮০ জন। আর এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫৪৯ জন।

এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে গত ১২ জুলাই সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর ১১ জুলাই সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। সেই সঙ্গে গত ১১ জুলাই থেকে প্রতিদিনই দুই শতাধিক ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হিসেবে শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৯ জুলাই পর্যন্ত) বিশ্বে যে সব দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। আর নতুন রোগী শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সবাইকে টিকার আওতায় আনতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশটিতে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য গন টিকাদান শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতেও ঈদকে সামনে রেখে আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে দেশব্যাপী চলবে গণপরিবহন, খোলা থাকবে দোকানপাট ও শপিংমল।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

কঠোর বিধিনিষেধকালে করোনায় মৃত্যু ২৫৪৯, শনাক্ত প্রায় দেড় লাখ

প্রকাশিত: ১১:১৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জুলাই ২০২১

আটকানো যাচ্ছে না করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। মাঝে সংক্রমণের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে দেশে ভাইরাসটি মহামারির আকার ধারণ করেছে। সে হিসেবে বর্তমানে সংক্রমণের হার দৈনিক প্রতিদিনই প্রায় ৩০ শতাংশের মতো। আর গত চার দিন মৃত্যু দুই শতাধিক।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। যা আরও সাতদিন বাড়িয়ে চলে ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত।

যেখানে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি বিধিনিষেধ এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা।

এ সময়ে জরুরি সেবা দেওয়া ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না এই সময়ে। অতি জরুরি প্রয়োজনে ‘বিধিনিষেধের’ সময় বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। পুলিশ জানিয়েছে, বিনা কারণে বাড়ির বাইরে গেলেই গ্রেফতার করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, চলতি জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৮০ জন। আর এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫৪৯ জন।

এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে গত ১২ জুলাই সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর ১১ জুলাই সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। সেই সঙ্গে গত ১১ জুলাই থেকে প্রতিদিনই দুই শতাধিক ব্যক্তি ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হিসেবে শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৯ জুলাই পর্যন্ত) বিশ্বে যে সব দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে ব্রাজিল। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। আর নতুন রোগী শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বাদশ অবস্থানে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় সবাইকে টিকার আওতায় আনতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করছে। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশটিতে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য গন টিকাদান শুরু করেছে।

এমন পরিস্থিতিতেও ঈদকে সামনে রেখে আগামীকাল ১৫ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে দেশব্যাপী চলবে গণপরিবহন, খোলা থাকবে দোকানপাট ও শপিংমল।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশে গত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে এর মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।