ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের প্রতি আহ্বান : বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০৮:৫৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১
  • 38

দেশে সংঘটিত সকল গুমের রহস্য উদঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষে কমিশন গঠনের দাবি এবং গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি। আজ ৩০ আগস্ট, ২০২১ সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ দাবী জানান।

তারা বলেন,সময়ের দাবি গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব। যখন সারা বিশ্বের যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস তখন বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ফেরত এলেও তাদের অধিকাংশ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বাংলাদেশে বেশ কিছু গুমের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগোর আঙ্গল উঠলেও এসব বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হচ্ছে বার বার। বরং সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গুমের শিকার সকল নিখোঁজ ব্যক্তিদেরকে জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করা, প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব।

তারা বলেন, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরাগভাজন তথা নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মতপ্রকাশ কিংবা সরকারের বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকান্ডের যে কোনও ধরনের সমালোচনা করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে। যা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের বিকাশে অন্তরায় ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। গুমের মতো সমাজবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী এই অমানবিক দুষ্কর্মের অবসান ঘটানো সম্ভব কেবল ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই।
এদিকে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ৩৪ জন ব্যক্তির অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির সূত্র ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ জুন পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) একটি চিঠি পাঠায়। ৩৪ জনের একটি তালিকা সংযুক্ত করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চাওয়াসহ চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছে এতে সরকার ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের প্রতি আহ্বান : বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির

প্রকাশিত: ০৮:৫৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১

দেশে সংঘটিত সকল গুমের রহস্য উদঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষে কমিশন গঠনের দাবি এবং গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি। আজ ৩০ আগস্ট, ২০২১ সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ দাবী জানান।

তারা বলেন,সময়ের দাবি গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষরে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব। যখন সারা বিশ্বের যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস তখন বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ফেরত এলেও তাদের অধিকাংশ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বাংলাদেশে বেশ কিছু গুমের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগোর আঙ্গল উঠলেও এসব বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হচ্ছে বার বার। বরং সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গুমের শিকার সকল নিখোঁজ ব্যক্তিদেরকে জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করা, প্রতিটি গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব।

তারা বলেন, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরাগভাজন তথা নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ মুক্তবুদ্ধির চর্চা, মতপ্রকাশ কিংবা সরকারের বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকান্ডের যে কোনও ধরনের সমালোচনা করা থেকে নিজেদের বিরত রাখে। যা প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সুশাসনের বিকাশে অন্তরায় ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। গুমের মতো সমাজবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী এই অমানবিক দুষ্কর্মের অবসান ঘটানো সম্ভব কেবল ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই।
এদিকে, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ৩৪ জন ব্যক্তির অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির সূত্র ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৪ জুন পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) একটি চিঠি পাঠায়। ৩৪ জনের একটি তালিকা সংযুক্ত করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চাওয়াসহ চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছে এতে সরকার ইতিবাচক সাড়া দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।