ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘শুটিং একটা খেলা, তাই সর্তকতার সঙ্গে সন্তানদের শেখাচ্ছিলাম’

  • Golam Faruk
  • প্রকাশিত: ০৭:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • 52

নিজ সন্তানদের গুলি করা শেখাচ্ছেন একজন বাবা। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই ভিডিও নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন বাবা তার দুই সন্তানকে গুলি চালানো শেখাচ্ছেন। সন্তানদের গুলি চালানো শেখানো ওই বাবা হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল জাহিদুল ইসলাম জুয়েল।

ফেসবুকের ওই ভিডিও নিয়ে  সঙ্গে কথা হয় জাহিদুল ইসলাম জুয়েলের। তিনি  জানিয়েছেন, ভিডিওটি ২০১৬ সালের দিকে তিনি তখন খুলনার কায়রায় ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তখন সুন্দরবন এলাকায় একদিন তার সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়া হয়।

জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেই সময় যেহেতু আমার কাছে পিস্তল ছিলো, সেটা দিয়ে কয়েক রাউণ্ড গুলি করেছিলেন আমার সন্তানেরা। সহজ সরল ভাবনা থেকেই গাছকে টার্গেট করে সন্তানদের গুলি চালানো শেখানো হয়েছিল। এটা খারাপ উদ্দেশ্যে করা নয়। এরপর ওই ভিডিও আমার ফেসবুকে দেয়া ছিলো।

জাহিদুল ইসলাম  আরও বলেন, ওই ভিডিও আমেরিকায় থাকা নিয়াজ মাহমুদ নামে একজন এতদিন পর নেতিবাচক উদ্দেশ্যে আমার ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে বিভিন্ন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। এই নিয়াজ মাহমুদ আমেরিকায় থাকেন, সংবাদিক রাষ্ট্র নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজে মন্তব্য লিখেন।

নিয়াজ মাহমুদ আমার বড় বোনকে ফেসবুকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৬ সালের ভিডিও নিয়ে নেগেটিভ ভাবে পোস্ট করেছে। উনি (নিয়াজ মাহমুদ) আমাদের পরিবারকে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করেছে।

আইনের ব্যাখা দিয়ে জাহিদুল ইসলাম  জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের শেষ দিকে অস্ত্রের বিধিমালা হয়েছিলো। যখন এটা করা হয় তখন কোন বিধিনিষেধ ছিলো না। এটি আমার ব্যাক্তিগত লাইসেন্স করা পিস্তল। ঘটনার সময় আইনে এতো কড়াকড়ি ছিলো। এখন যেমন গুলি ব্যবহার করলে থানায় জিডি হয়, তদন্ত হয়, তখন এসব ছিলো না।

তিনি আরটিভি নিউজের কাছে আরও যোগ করে জানিয়েছেন, তখন তো বন্ধুবান্ধব আমরা এমনি ফায়ার করতাম। একটা গাছ টার্গেট করে ফায়ার করতাম। দেখা একটু শিখা, আমার যেহেতু অস্ত্র ছিল, আমার স্ত্রী ও আমার ছেলে মেয়েরা একটু শিখতো।

তিনি  জানিয়েছেন, শুটিং একটা খেলা। তারা এখন থেকে শেখাচ্ছিলাম। সেদিন ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছি। নিজের ফেসবুকে দেয়া মানে তো সারা দুনিয়ার জন্যে, এটা তো খারাপ উদ্দেশ্যে দেয়া না। পাঁচ বছর ধরে ভিডিওটা নিয়ে কেউ কিছু বলেনি কিন্তু রেসারেসির কারণে উনি (নিয়াজ মাহমুদ) খারাপ ভাবে উপস্থাপন করেছে । উনি আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

ফেসবুকে ভিডিওটি নিয়ে নানা কথা হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারি জজ জাহিদুল ইসলাম জুয়েল  জানিয়েছেন, ভিডিওটি আমার টাইমলাইনে পাঁচ বছর আগে সহজ সরল ভাবনায় পোস্ট করেছিলাম। তারপরও যেহেতু কথা হচ্ছে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিষয় :
প্রতিবেদক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

Golam Faruk

জনপ্রিয়

‘শুটিং একটা খেলা, তাই সর্তকতার সঙ্গে সন্তানদের শেখাচ্ছিলাম’

প্রকাশিত: ০৭:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজ সন্তানদের গুলি করা শেখাচ্ছেন একজন বাবা। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই ভিডিও নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন বাবা তার দুই সন্তানকে গুলি চালানো শেখাচ্ছেন। সন্তানদের গুলি চালানো শেখানো ওই বাবা হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল জাহিদুল ইসলাম জুয়েল।

ফেসবুকের ওই ভিডিও নিয়ে  সঙ্গে কথা হয় জাহিদুল ইসলাম জুয়েলের। তিনি  জানিয়েছেন, ভিডিওটি ২০১৬ সালের দিকে তিনি তখন খুলনার কায়রায় ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তখন সুন্দরবন এলাকায় একদিন তার সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়া হয়।

জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেই সময় যেহেতু আমার কাছে পিস্তল ছিলো, সেটা দিয়ে কয়েক রাউণ্ড গুলি করেছিলেন আমার সন্তানেরা। সহজ সরল ভাবনা থেকেই গাছকে টার্গেট করে সন্তানদের গুলি চালানো শেখানো হয়েছিল। এটা খারাপ উদ্দেশ্যে করা নয়। এরপর ওই ভিডিও আমার ফেসবুকে দেয়া ছিলো।

জাহিদুল ইসলাম  আরও বলেন, ওই ভিডিও আমেরিকায় থাকা নিয়াজ মাহমুদ নামে একজন এতদিন পর নেতিবাচক উদ্দেশ্যে আমার ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে বিভিন্ন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। এই নিয়াজ মাহমুদ আমেরিকায় থাকেন, সংবাদিক রাষ্ট্র নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজে মন্তব্য লিখেন।

নিয়াজ মাহমুদ আমার বড় বোনকে ফেসবুকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৬ সালের ভিডিও নিয়ে নেগেটিভ ভাবে পোস্ট করেছে। উনি (নিয়াজ মাহমুদ) আমাদের পরিবারকে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করেছে।

আইনের ব্যাখা দিয়ে জাহিদুল ইসলাম  জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের শেষ দিকে অস্ত্রের বিধিমালা হয়েছিলো। যখন এটা করা হয় তখন কোন বিধিনিষেধ ছিলো না। এটি আমার ব্যাক্তিগত লাইসেন্স করা পিস্তল। ঘটনার সময় আইনে এতো কড়াকড়ি ছিলো। এখন যেমন গুলি ব্যবহার করলে থানায় জিডি হয়, তদন্ত হয়, তখন এসব ছিলো না।

তিনি আরটিভি নিউজের কাছে আরও যোগ করে জানিয়েছেন, তখন তো বন্ধুবান্ধব আমরা এমনি ফায়ার করতাম। একটা গাছ টার্গেট করে ফায়ার করতাম। দেখা একটু শিখা, আমার যেহেতু অস্ত্র ছিল, আমার স্ত্রী ও আমার ছেলে মেয়েরা একটু শিখতো।

তিনি  জানিয়েছেন, শুটিং একটা খেলা। তারা এখন থেকে শেখাচ্ছিলাম। সেদিন ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছি। নিজের ফেসবুকে দেয়া মানে তো সারা দুনিয়ার জন্যে, এটা তো খারাপ উদ্দেশ্যে দেয়া না। পাঁচ বছর ধরে ভিডিওটা নিয়ে কেউ কিছু বলেনি কিন্তু রেসারেসির কারণে উনি (নিয়াজ মাহমুদ) খারাপ ভাবে উপস্থাপন করেছে । উনি আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

ফেসবুকে ভিডিওটি নিয়ে নানা কথা হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিনিয়র সহকারি জজ জাহিদুল ইসলাম জুয়েল  জানিয়েছেন, ভিডিওটি আমার টাইমলাইনে পাঁচ বছর আগে সহজ সরল ভাবনায় পোস্ট করেছিলাম। তারপরও যেহেতু কথা হচ্ছে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।